ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দণ্ডিত যৌন অপরাধী ও প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিন নাকি একাধিক ই-মেলে লিখেছিলেন যে রুশ তরুণীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে বিল গেটস যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হন। সেই সঙ্গে এপস্টিনের দাবি, গেটস নাকি তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডাকে গোপনে দেওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক জোগাড় করে দিতে অনুরোধ করেছিলেন।
advertisement
গোটা বই নয়! জীবনবিজ্ঞানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে পড়ুন এটা! নম্বর উঠবে ৯০ শতাংশের কাছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দফতরের প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকরা এই অভিযোগের সন্ধান পান বলে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ‘দ্য সান’ ও ‘ডেইলি মেল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই এপস্টিন নিজেকে উদ্দেশ করে যে ই-মেলগুলি লিখেছিলেন, তার স্ক্রিনশটে এই অভিযোগগুলি রয়েছে। ওই ই-মেলগুলিতে এপস্টিন গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, যৌনবাহিত রোগ সংক্রান্ত ই-মেল মুছে ফেলতে তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
ডেইলি মেলের প্রতিবেদনে এপস্টিনের লেখা বলে দাবি করা অংশে উল্লেখ রয়েছে, গেটসের সিদ্ধান্তে তিনি ‘চরমভাবে হতাশ’ হয়েছিলেন। সেখানে আরও অভিযোগ করা হয়, মেলিন্ডাকে গোপনে ওষুধ দেওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চাওয়া এবং ব্যক্তিগত শারীরিক বিবরণের কথাও নাকি ই-মেলে লেখা ছিল।
‘দ্য সান’ জানিয়েছে, এই নথিগুলি সম্ভবত এপস্টিনের খসড়া চিঠি, যা আদৌ পাঠানো হয়েছিল কি না, তার কোনও প্রমাণ নেই। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা বরিস নিকোলিচের নামও এতে উঠে এসেছে। নিকোলিচকে নাকি দম্পতির বৈবাহিক বিবাদে টেনে আনা হয়েছিল এবং কিছু অনৈতিক বা বেআইনি কাজে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে এপস্টিনের অভিযোগ।
তবে দুই সংবাদমাধ্যমই স্পষ্ট করেছে, এপস্টিনের এই দাবিগুলির কোনও স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিল গেটস। ডেইলি মেলকে দেওয়া বিবৃতিতে তাঁর মুখপাত্র জানান, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর। তাঁর বক্তব্য, এই নথি শুধু এপস্টিনের হতাশা এবং গেটসকে ফাঁসানোর ও বদনাম করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই প্রমাণ করে না।
এর আগেও বিল গেটস স্বীকার করেছিলেন যে তিনি এক সময় এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তবে কোনওরকম অন্যায়ে যুক্ত থাকার অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করেছেন। এপস্টিন সম্পর্কে আরও জানার পর সেই সম্পর্ক নিয়ে তিনি অনুতপ্ত বলেও জানিয়েছিলেন।
এদিকে, মার্কিন বিচার দফতর তিন মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠার এপস্টিন সংক্রান্ত নথি, সঙ্গে হাজার হাজার ভিডিও ও ছবি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ছ’লক্ষ নথি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি বহু নথি এখনও সিল করা রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টিনকে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নিউ ইয়র্কের জেলে তাঁর মৃত্যু হয়। সরকারি তদন্তে একাধিকবার জানানো হয়েছে, এপস্টিন আত্মহত্যা করেছিলেন।
