নিউইয়র্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার মিশিগানে একটি গাড়ি নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করতে যান। সেই সময় এক বিক্ষোভকারীর উদ্দেশে অশালীন প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। এই প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় তিনি ক্যামেরায় ধরা পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এই দৃশ্য দেখা যায়।
advertisement
মিশিগানের ডেট্রয়েটে ফোর্ড এফ-১৫০ কারখানা পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পকে কারখানার ভেতরের উৎপাদন এলাকা দেখার জন্য উঁচু একটি ওয়াকওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেই সময় তাঁর গায়ে ছিল লম্বা কালো ওভারকোট। ভিডিওতে দেখা যায়, নীচ থেকে চিৎকার শোনার পর ট্রাম্প কারখানার মেঝেতে থাকা ওই বিক্ষোভকারীর দিকে আঙুল তুলে তাকান। এরপর তিনি বিরক্ত মুখভঙ্গিতে কয়েকটি কড়া শব্দ বলেন এবং মধ্যমা তুলে দেখান।
ওই বিক্ষোভকারীর পরিচয় জানা যায়নি। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চুয়াং এএফপিকে বলেন, তার যা প্রাপ্য ছিল, তাই পেয়েছে। চুয়াং বলেন, ‘একজন উন্মাদ ব্যক্তি সম্পূর্ণ ক্ষোভের মধ্যে অশ্লীল ভাষায় চিৎকার করছিল, আর প্রেসিডেন্ট তার উপযুক্ত ও স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন।’ টিএমজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারী ট্রাম্পের উদ্দেশে আংশিকভাবে ‘পেডোফাইল প্রোটেক্টর’ বা শিশুকে যৌন নিপীড়নকারী বা শিশুকামীদের রক্ষক বলে চিৎকার করছিলেন। তার জবাবেই মেজাজ হারিয়ে ট্রাম্প এই গালি দেন।
৭৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিতে চাপ বাড়তে দেখা গিয়েছে। এপস্টেইন একসময় ট্রাম্প ও ধনীদের সামাজিক মহলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থলগ্নিকারী এপস্টেইন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছে, যা ট্রাম্পের সমর্থকৈরাও জোরালোভাবে প্রচার করেছেন।
ট্রাম্প এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের জন্য দ্বিদলীয় আইন অনুমোদন করেছিলেন। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সব নথি প্রকাশের সময়সীমা পূরণ করতে পারেনি। চলতি মাসের শুরুতে বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রকাশের জন্য এখনও দুই মিলিয়নের বেশি নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
