ট্রাম্প দাবি করছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যেই ইরানে শাসন পরিবর্তন (regime change) হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। তাঁর কথায়, আগের নেতৃত্বের তুলনায় নতুন নেতৃত্ব অনেক বেশি দায়িত্ববান। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, এই আত্মবিশ্বাসের আড়ালে রয়েছে সীমিত ও জটিল বিকল্পের চাপ।
৪ গ্রহের বিরল সংযোগ এপ্রিলেই! কেরিয়ারে বিরাট সাফল্য, ভাল সময়, এপ্রিলেই কপাল খুলবে কোন ৫ রাশির?
advertisement
প্রথম বিকল্প—সংঘাত আরও বাড়ানো। এর অর্থ হতে পারে ইরানের ভেতরে আরও গভীর সামরিক হামলা বা গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া। এই পথে ঝুঁকি বিপুল। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির পাল্টা আক্রমণ, Strait of Hormuz-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতে অস্থিরতা, এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধাক্কা—সবই সম্ভাব্য পরিণতি। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, কেবলমাত্র শক্তি বাড়ালেই নিশ্চিত সাফল্য আসে না।
দ্বিতীয় বিকল্প—জয়ের ঘোষণা করে সরে আসা। রাজনৈতিকভাবে এটি সুবিধাজনক মনে হলেও, বাস্তবে এতে তৈরি হতে পারে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধের ফলাফল খুব দ্রুত যাচাই হয়ে যায়। তাই মাটির বাস্তবতার সঙ্গে মিল না থাকলে ‘জয়’-এর দাবি টিকিয়ে রাখা কঠিন।
এই জটিলতার মূল কারণ একটি বড় ভুল হিসাব। ধারণা করা হয়েছিল, চাপের মুখে ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে। কিন্তু বাস্তবে ইরান দেখিয়েছে তার প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা, অসম যুদ্ধের ক্ষমতা এবং বিস্তৃত আঞ্চলিক প্রভাব। ফলে দ্রুত কোনও সমাধান বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে এক ক্লাসিক কৌশলগত দোটানায়, যেখানে সংঘাত বাড়ালে দীর্ঘ ও বিস্তৃত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, আর সরে এলে অকার্যকর বলে মনে হওয়ার ঝুঁকি। ইতিহাস বলছে, যুদ্ধ অনেক সময় এমন পথে এগোয়, যা নেতাদের পূর্বানুমানের বাইরে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সামনে রেখে যায় শুধু কঠিন সিদ্ধান্ত, স্পষ্ট জয় নয়।
