বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, এই অনুষ্ঠানে ভারতের অংশগ্রহণ দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে তুলে ধরে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকে পুনরায় নিশ্চিত করে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি জানিয়েছে, পারস্পরিক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সম্মানের ভিত্তিতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠনে ভারত স্বাগত জানাচ্ছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান দেশের গত ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
advertisement
আরও পড়ুনঃ স্কুল মাঠ থেকে ব্লক অফিস! যুব সাথীর ফর্ম তুলতে লম্বা লাইনে হাজার হাজার আবেদনকারী
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতসহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে—চীন, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে আমন্ত্রণ জানানোকে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক মহল।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী ফোনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ জয়ের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছি এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁকে শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানিয়েছি।”
জবাবে বিএনপি জানিয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের এই জয়ের স্বীকৃতি দেওয়ায় তারা ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ। একইসঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা ও আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশাবাদও প্রকাশ করেছে দলটি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। তার পরেই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে স্পষ্ট ম্যান্ডেট পেয়ে ক্ষমতায় আসছে বিএনপি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বড় পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তিনি দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র—এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবেও পরিচিত।
নতুন সরকারের শপথকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ, কারণ এই পরিবর্তন ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
