পরবাসীর গল্প শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকের পূর্ব পাকিস্তানে, ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়াবহ সময়কালে। প্রাক্তন মুক্তিযোদ্ধা নিমাই তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিরাপত্তার খোঁজে ভারতে চলে আসে। যাত্রাপথে মেয়ে অসীমা নিখোঁজ হয়ে যায়।
অবশেষে তারা পুনিরামের নেতৃত্বে ত্রিপুরার একটি আদিবাসী গ্রামে আশ্রয় পায়। পূর্ব পাকিস্তান থেকে শরণার্থীরা আসতে থাকলে স্থানীয় আদিবাসীরা জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে। কয়েকজন বিপথগামী যুবকের দ্বারা সৃষ্ট সহিংসতা সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ এবং দ্বন্দ্বকে আরও গভীর করে তোলে।
advertisement
আরও পড়ুন– সেজে উঠবে, হেসে উঠবে শহরের দেওয়াল, ভারত ও ফ্রান্সকে সংযুক্ত করবে জাতীয় নগর শিল্প আন্দোলন
ভাগ্যের এক অপ্রত্যাশিত মোড়ে পরিবারটি অসীমার খোঁজ পায়, যে এখন বাংলাদেশে আমিনা বেগম নামে পরিচিত। তার পরে গল্প কোন দিকে এগোয়, তা দর্শকের জন্য তুলে রাখাই উচিত হবে।
ছবিটি প্রযোজনা করেছে অনিল দেবনাথের পূর্ব দিগন্ত ফিল্ম প্রোডাকশন, পরবাসী পরিচালক হিসেবে মনেট সাহার প্রথম ছবি। এর সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন অমিত চট্টোপাধ্যায়, গানগুলিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শান, ইমন চক্রবর্তী, মেখলা দাশগুপ্ত, ঈক্ষিতা প্রমুখ।
পরবাসী ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত হয়েছিল এবং দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছে। এটি ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ত্রিপুরায় মুক্তির তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিঞ্জল নন্দ, লোকনাথ দে, দেবপ্রতিম দাশগুপ্ত, সবুজ বর্ধন, স্বাতী মুখোপাধ্যায়, আঁখি ঘোষ প্রমুখ। ‘‘আমি সবসময় এমন প্রকল্পে জড়িত থাকতে চাই যেখানে বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাগুলির প্রতিফলন ঘটে। পরবাসীর চিত্রনাট্যটি প্রথম থেকেই আমার কাছে সেজন্য আকর্ষণীয় ছিল’’, বলেছেন সবুজ বর্ধন।
‘‘মানবতা হল চূড়ান্ত ধর্ম, এই ছবি সেই বিষয়ে জোর দেয়। এটি দেশভাগ এবং এর ফলে মানুষের যে অবিস্মরণীয় যন্ত্রণা হয়েছিল তাও বলে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বিশ্বাস করি এই ছবিটি আজকের সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক’’, বলছেন ছবির আরেক অভিনেতা কিঞ্জল নন্দ।
‘‘অভিবাসন বিশ্ব জুড়ে একটি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা, যা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কারণ দ্বারা পরিচালিত। আমরা যা চিত্রিত করেছি তা আজ পর্যন্ত অভিবাসনের অভিজ্ঞতার একটি অংশ মাত্র- এখনও অনেক অকথিত গল্প বিশ্বের কাছে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। যেহেতু এটি আমার প্রথম ছবি ছিল, তাই শুরুতে আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। তবে, প্রযোজক আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন এবং পুরো যাত্রা জুড়ে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন’’, জানিয়েছেন পরিচালক।
