শুধু অন্নপূর্ণা পুজো নয়, বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মতো, রাজ-শুভশ্রীর ঘরেও নিয়মিত পুজো হয়৷ জগন্নাথ মহাপ্রভুর পুজো হোক বা লক্ষ্মী পুজো, ঘটা করে হয় তাঁদের বাড়িতে৷ তারকা দম্পতি নিজে হাতে ব্যবস্থা করেন সবকিছুর৷ এবারও অন্যথা হল না৷
অন্নপূর্ণা পুজোয়ে শুভশ্রীর সাজ ছিল বাঙালিয়ানায় মোড়া৷ লাল রঙের শাড়ি পরেছিলেন তিনি, সঙ্গে মানানসই গয়না৷ খুব ভক্তভরে পুজোর সব রীতি পালন করলেন টলিউডের সফল নায়িকা৷ আর এই ভিডিওর মাধ্যমে সকলের সামনে চলে এল তাঁর বাড়ির অন্দরসজ্জার ছবিও৷
প্রচারের কাজে ব্যস্ত রাজ৷ এবারও তিনি তৃণমূলের প্রার্থীপদ পেয়েছেন৷ অন্যদিকে শুভশ্রী ব্যস্ত তাঁর ছবির কাজ নিয়ে৷ আবারও দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধে তৈরি হচ্ছে ছবি, যা পুজোয় মুক্তি পাবে৷
অন্যদিকে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও বাড়ির অন্নপূর্ণা পুজোয় ব্যস্ত ছিলেন৷ মল্লিক বাড়ির অন্নপূর্ণা পুজোর নানা মুহূর্ত শেয়ার করলেন তিনি। মন দিয়ে পুজোর কাজ করলেন নিজের হাতে। অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন রঞ্জিত মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী দীপা মল্লিক।
মা দুর্গার আরেক রূপ হল অন্নপূর্ণা। মা অন্নপূর্ণা অন্নদা নামেও পরিচিত। মা অন্নপূর্ণাকে বলা হয় অন্নদাত্রী। তিনি শক্তির অপর রূপ। মা অন্নপূর্ণার এক হাতে থাকে অন্ন পাত্র অন্য হাতে থাকে হাতা। বাসন্তী পুজোর অষ্টমী তিথিতে মা অন্নপূর্ণার পুজো করা হয়। অন্ন শব্দের অর্থ হল ধান। আর পূর্ণা কথার অর্থ হল পূর্ণ ।নানা পুরাণ ও গ্রন্থে দেবী অন্নপূর্ণার উল্লেখ আছে। নানা কাহিনি প্রচলিত আছে মা অন্নপূর্ণাকে নিয়ে। এর মধ্যে অন্যতম হল কাশি উপাখ্যান।রায়্গুনাকার ভারতচন্দ্র দেবী অন্নপূর্ণার কথা উল্লেখ করে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেছিলেন, যেখানে মা অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে আর এক পৌরাণিক কাহিনি। পুরাণ মতে বিবাহের পর শিব পার্বতী সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের জেরে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। ভোলেনাথের সঙ্গে মায়ের মতবিরোধ হয়। মা পার্বতী কৈলাস ত্যাগ করে চলে আসেন। সেই সময় দেখা যায় মহামারি, খাদ্য কষ্ট। ভক্তরা আকুল হয়ে পড়ে, তারা দেবাদীদেবকে ডাকতে থাকে। সেই সময় ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মহাদেব। কিন্তু দেবীর মায়ায় কোথাও ভিক্ষা জোটে না তার। তখন শোনা যায় কাশিতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন।
