রাহুলের ভাষায়, ” ভাল খবর হল ‘কেরালা স্টোরি’-র হল প্রায় ফাঁকাই যাচ্ছে, কেউ-ই বিশেষ দেখছে না। পাশাপাশি এটাও বোঝাচ্ছে যে এমন কিছু মানুষ আছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠই, যাঁরা এখনও কেরালা কী, তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি কী, তা বুঝতে পারেননি।” কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, “সিনেমা, টেলিভিশন এবং মিডিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোকে নির্দিষ্টভাবে মানুষকে বদনাম করতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে কিছু গোষ্ঠী লাভবান হয় আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
advertisement
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের প্রবণতা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তিনি জানান, এই ধরনের বয়ান ছড়িয়ে দিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধি বলেন, “কোনও ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট ধরনের চলচ্চিত্র তৈরি করতে চান, মিডিয়ায় কিছু বলতে চান বা কোনও বিশেষ মতাদর্শের পক্ষে কথা বলেন, তাহলে তাঁকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয় এবং অনেক সময় কথা বলতেও দেওয়া হয় না। আমি নিজে নিয়মিত এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। অন্যদিকে, কিছু নির্দিষ্ট বয়ান মানুষ যত খুশি ছড়াতে পারে এবং প্রচার করতে পারে, তাতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয় না।”
গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে ‘ দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’। ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের তিন হিন্দু মহিলা। তাঁরা তাঁদের পরিবারকে অমান্য করে মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করেন এবং পরে তাঁদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়। ছবিটির সিক্যুয়েল মুক্তি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দাবি, ছবিটি কেরালাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, ‘কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’ রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে কেরালা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ছবিটি মুক্তির পথ পরিষ্কার করে দেয়। তারা একক বিচারপতির সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়, যেখানে ১৫ দিনের জন্য ছবিটির প্রদর্শন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একক বিচারপতি উল্লেখ করেছিলেন, ছবিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে “প্রাথমিকভাবে সুস্পষ্টভাবে পর্যাপ্ত বিবেচনার অভাব” ছিল।
