একজন অনামী পরিচালক, দুজন অনামী নায়ক-নায়িকা, তবুও ব্লকব্লাস্টার। ঠিক কী ছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ? প্রশ্নের একটাই উত্তর বাঙালির আবেগ ছিল। দুটো ছেলেমেয়ের প্রেম ছিল। আর ছিল সাবলীল অভিনয়। মেকানিক রাহুলের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছিল প্রতিটি মফস্বলে থাকা ছেলের জীবন, যাঁদের ভালবাসার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। কিন্তু যদি একটিবার ভালবাসতে পারে তাহলে উজাড় করে দেবে নিজেকে, নিজের জীবনকে।
advertisement
উচ্চবিত্ত বাড়ির মেয়ে পল্লবীর প্রেমে পড়ে রাহুল। গরীব মেকানিক কৃষ্ণর সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক মেনে নেয়নি পল্লবী পরিবার। কিন্তু, ভালবাসলে তো সকলের মনেই থিম সং হয় ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, সদ্য প্রথম প্রেমে পড়া ছেলেমেয়েদের মনেও তাই ছিল। পরিবারের বাঁধা, সমাজের তাচ্ছিল্য, আর্থিক অসাম্য সব উপেক্ষা করে আপ্রাণ চেষ্টা করে ভালবাসার ভেলায় ভেসে থাকার। সিনেমায় তাঁদের প্রেম বিভিন্ন গানে ধরা দিয়েছে। ‘বাতাস গুণগুণ গানে…’ নিজেদের একবার করে ভেবে নিয়েছে দর্শককূল। তবে, শেষরক্ষা হল না। দম্ভ, হিংসা, লোক দেখানো পারিবারিক সম্মানের কাছে নতি স্বীকার করে ভালবাসা। পথ আলাদা হয়ে যায় পল্লবী-কৃষ্ণ। নিজের নতুন সংসার শুরু করে পল্লবী। তবে, কৃষ্ণ সত্যি ‘প্রেমে পাগল’ হয়ে যায়।
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর শেষ দৃশ্যে সবাই রুমাল খুঁজছিল। কারণ পল্লবী-কৃষ্ণের হেরে যাওয়া শুধু একটা সিনেমার অংশ নয়, এই সমাজের অনেক গোঁড়ামিকে, অসাম্যকে জিতিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত। প্রতিটি ছবিতে আমাদের ইউএসপি বের করার চেষ্টায় থাকি, এই ছবির ক্ষেত্রে তা ছিল সারল্য। গল্পের সারল্য, অভিনয়ে সারল্য, ডায়লগে সারল্য। রাহুল চলে গেলেন রবিবার বিকেলে, তলিয়ে গেলেন সমুদ্রে, আসলে তাঁর সঙ্গে তলিয়ে গেল বিস্তীর্ন এক মফঃস্বলের ইচ্ছেডানা, নিভে গেল আস্ত একটা প্রজন্মের ম্যাটিনি শোয়ের ঝাড়বাতি! আজকের আগে মানুষ রাহুলের জন্য নয় সঙ্গে কেঁদেছিল ছবির শেষে ‘পিয়া রে…’ গানে। আর আজকে ওঁর জন্য…
