অপারেশন সার্চলাইটের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়, যার ফলে ব্যাপক সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতি ঘটে। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে ভারত ১৯৭১ সালের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলস্বরূপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে জিমি রায় (আরিফিন শুভ), একজন উদ্বাস্তু, যে নতুন পরিচয় গ্রহণ করে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলে।
advertisement
তার অতীত আবার সামনে আসে শীলা বসুর (সৌরসেনী মৈত্র) মাধ্যমে, যে এখন এক ধনী পরিবারে বিয়ে করলেও উদ্বাস্তু ত্রাণকাজে গভীরভাবে জড়িত। জিমির জীবনে মোড় আসে যখন একজন ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাকে বাংলাদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোপন অভিযানে জড়িয়ে ফেলে। তার নাইটক্লাবটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি হয়ে ওঠে, যা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের চরিত্রে পরিপূর্ণ, যাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব গোপন কাহিনী রয়েছে।
জিমি রায়ের চরিত্রে আরিফিন শুভ সাবলীল অভিনয় করেছেন। তাঁর চরিত্রটি আকর্ষণীয় ও কৌতুকপূর্ণ, রয়েছে কিছুটা চতুরতার ছোঁয়া, কিন্তু অন্তরের গভীরে এক দ্বন্দ্বে জর্জরিত। শীলা বসুর চরিত্রে সৌরসেনী মৈত্র এনেছেন কমনীয়তা ও স্থিরতা। জেনারেল হানিফের চরিত্রে শতাফ ফিগার অতিরঞ্জিত না হয়েও ভীতিপ্রদ, কিন্তু এই সিরিজের আসল আকর্ষণ হলেন স্পাইমাস্টারের ভূমিকায় শান্তনু ঘটক। লেখক-পরিচালক সৌমিক সেনের প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এবং তিনি সেই সময়ের প্রেক্ষাপট ও আবহ ভালভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
আরও পড়ুন– হরমুজ নিয়ে ইরানের সঙ্গে বড় চুক্তি ! পাকিস্তান পেল ‘মধ্যস্থতার’ পুরস্কার, হতবাক বিশ্ব
সিরিজে কলকাতার জ্যাজ সংস্কৃতিও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কার্লটন কিটোর মতো সঙ্গীতশিল্পীরা একটি স্বতন্ত্র সুর তৈরি করেছেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে নজরুলগীতি পর্যন্ত বিস্তৃত সঙ্গীত এই পিরিয়ডিক্যাল ওয়েব ড্রামায় একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। নিজেদের পরিচয় ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য সংগ্রামরত মানুষের আবেগঘন লড়াইকে তুলে ধরতে ‘জ্যাজ সিটি’ সফল হয়েছে। অভিনয় এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটটি বাস্তবসম্মত বলেই মনে হয়। প্রোডাকশন ডিজাইন এবং সিনেম্যাটোগ্রাফিও চিত্তাকর্ষক- যাঁরা পরতে পরতে গল্পকথনের শৈলী পছন্দ করেন, হাতে সময় নিয়ে বহু চরিত্রের পিরিয়ড ড্রামায় নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চান, তাঁদের ‘জ্যাজ সিটি’ ভাল লাগবে।
