পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুরের বাসিন্দা সন্দীপ মাল। মাত্র চার বছর বয়স থেকেই গান শেখা শুরু। প্রথম অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন মামার কাছ থেকে। সেখান থেকেই সংগীতের হাতে খড়ি। এরপর শিলিগুড়িতে নিয়মিত গান শিখতেন। ছোটবেলাতেই সংগীতকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন তিনি। পরিবারের আপত্তি থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। ধীরে ধীরে গানই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের একমাত্র সঙ্গী।
advertisement
পরবর্তী সময়ে কলকাতায় এসে সংগীতচর্চা শুরু করেন। কামাকস্ট্রিটে সংগীত গুরু আচার্য্য যামিনীনাথ গাঙ্গুলী ও তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা ঝর্না ব্যানার্জির কাছে তালিম নেন। কিন্তু কলকাতায় থাকার মতো স্থায়ী জায়গা ছিল না। কখনও আত্মীয়ের বাড়ি, কখনও বন্ধুর রুমে, আবার কখনও রাস্তাই ছিল ভরসা। দিনের পর দিন এভাবেই কেটেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নিরলসভাবে সংগীত গুরুর কাছে তালিম নিয়েছেন। সেই কঠিন সময় আজও তাঁর স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে।
আজ সন্দীপ বাবু একজন সুপ্রতিষ্ঠিত সংগীত গুরু। তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা রাজ্যের বড় বড় মঞ্চে গান গাইছেন। ভবানীপুর সংগীত সম্মেলন, মহাব্রতি সোসাইটি, দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্ক সহ একাধিক নামী মঞ্চ মাতিয়েছেন তিনি। এগরা, চণ্ডিপুর, ময়না জেলা এবং কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত গান শেখাচ্ছেন। দুঃস্থ ও দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের তিনি বিনা পারিশ্রমিকে গান শেখান। সত্যিই সন্দীপবাবু প্রমাণ করে দিয়েছেন—ইচ্ছেশক্তিই আসল শক্তি। যেখানে লক্ষ্য আর ইচ্ছে থাকে, সেখানে কোনও বাধাই শেষ পর্যন্ত আটকাতে পারে না।