তদন্তে পুলিশের হাতে একটি ভিডিও ফুটেজ আসে। রাহুল আর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা শট দেওয়ার সময়েই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। যখন দুর্ঘটনাটি ঘটছে, তখন শ্যুটিংয়ের ক্যামেরা অন ছিল। সেখানেই ধরা পড়ে দুর্ঘটনার মুহূর্তের ফুটেজ। ফুটেজে দেখা যায়, তালসারির সমুদ্রের অনেকটা ভিতরের দিকে চলে যান রাহুল ও শ্বেতা। শ্যুটিংয়ের ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী প্রথমে জলে পড়ে যান। তার পর রাহুলও পড়ে যান। তারপর দেখা যাচ্ছে, ক্যামেরা যেখানে বাসনো ছিল, তার ডান ডিক থেকে একজন ছুটে যাচ্ছেন, জলের উপর দিয়ে ছুটে গিয়ে তিনি শ্বেতাকে প্রথমে উদ্ধার করেন। পাশে একটা বোট ছিল, সেই বোটে তাঁকে তুলে নিয়ে পাড়ে চলে আসেন। কিন্তু রাহুল বেশ কিছুটা সময় জলের মধ্যেই ছিলেন। প্রথমদিকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এর পর ক্যামেরা অফ হয়ে যায়। পুলিশ জানাচ্ছে, যারা শ্যুটিংয়ে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বয়ান রেকর্ড করার কাজ শুরু হয়েছে। শ্যুটিংয়ের ইউনিটকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর রাহুলকে জল থেকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
advertisement
রাহুলের ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। দীর্ঘসময় জলের নীচেই ছিলেন রাহুল। তমলুক হাসপাতাল সূত্রে খবর,ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফুসফুসের ভিতর অত্যাধিক পরিমাণে বালি ও নোনা জল মেলে। রিপোর্টে উল্লেখ, অল্প সময় জলে ডুবে থাকলে এমন হয় না। কম করে এক ঘণ্টারও বেশি সময় জলের নীচে ছিলেন বলে ধারণা। রিপোর্টে উল্লেখ, বেশি পরিমাণ বালি ঢুকে যাওয়ায় মৃত্যু। খাদ্যনালির মধ্যেও বালি, নোনা জল মেলে। শরীরে কোনও অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কী না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ভিসেরা রিপোর্ট আসলে পরিষ্কার হবে! কোনও ফাউল প্লে ছিল না।
