রবিবারই চার রাজ্যে ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এরপরেই তুমুল তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ ডিজি-এডিজি লেভেলের একগুচ্ছ পদে রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। স্পষ্ট বলা হয়েছে যাঁদের অপসারণ করা হল তাঁরা কেউ নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: বাড়িতে ‘কত’ লিটার পেট্রোল রাখলে আপনার ‘জেল’ হতে পারে জানেন…? চমকাবেন শুনলেই!
advertisement
মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নন্দিনী চক্রবর্তীকে। সরানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট শেষ না-হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজ করতে পারবেন না তাঁরা। একইসঙ্গে বাংলার পুলিশ মহলেও বিরাট রদবদল করা হল। রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হল সিদ্ধনাথ গুপ্তাকে। বদলে দেওয়া হল কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও। সুপ্রতীম সরকারের জায়গায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হল অজয় কুমার নন্দাকে। নটরাজন রমেশ বাবু হলেন ডিজি কারেকশনাল সার্ভিস। অজয় রানাডে হলেন এডিজি এলও।
এরই মধ্যে অন্যদিকে বড় নির্দেশ এল নির্বাচনের পর্যবেক্ষকদের জন্যেও। আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে তাঁদের প্রত্যেককে রিপোর্ট করার নির্দেশ দিল কমিশন। প্রতি বিধানসভা কেন্দ্র পিছু একজন করে জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করছে কমিশন। ১৮ই মার্চের মধ্যেই জেলায় জেলায় এই পর্যবেক্ষকদের যোগ দেওয়ার নির্দেশ কমিশনের। এমনটাই সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পরই প্রস্তুতি জোরদার করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। গতকাল, রবিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে জানিয়েছে, রাজ্যে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে।
এই পরিস্থিতিতে আজ বিকেল সাড়ে তিনটেয় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নির্বাচনের প্রস্তুতি, আদর্শ আচরণবিধি এবং ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। নির্বাচন দফতর সূত্রে খবর, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাওয়া হবে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পর্কেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
