কয়েকদিন আগেই সৌমেন মহাপাত্রের পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে৷ এতেও যারপরনাই ক্ষুব্ধ সৌমেন৷ তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কথা তাঁকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানোও হয়নি৷ সৌমেন মহাপাত্র আগেই জানিয়েছিলেন, বুধবার তিনি মুখ খুলবেন৷
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও সেখানে দলের কোনও প্রতীক অথবা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ছবি রাখেননি সৌমেন৷ তার বদলে স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ এবং মা সারদার ছবি দেওয়া একটি ব্যানার রেখেছিলেন তিনি৷
advertisement
প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেনের অভিযোগ, ‘সামনেই বিধানসভা ভোট। কিন্তু দল আমাকে কাজে লাগাচ্ছে না। আমি চারবারের বিধায়ক- তিনবারের মন্ত্রী, দল কী চাইছে আমি জানি না। তমলুকের তৃণমূল বিধায়কের কথায়, একুশের তুলনায় ছাব্বিশের লড়াইটা অনেক কঠিন। বিরোধী বিজেপির শক্তি বেড়েছে। তাই আমাদের লড়াই অনেকটা কঠিন জায়গায় রয়েছে।’
বিস্ফোরক অভিযোগ করে সৌমেন আরও দাবি করেন, ‘শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আমি কটূ কথা বলতে পারিনা। তাই অনেকেই বলছে আমি বিজেপি-র লোক!’
সৌমেনের সঙ্গে গলা মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারী প্রসঙ্গে এদিন একই কথা বলেন তাঁর স্ত্রী তথা পাঁশকুড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুমনা মহাপাত্র।
আচমকা তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা নিয়েও সরব হয়েছেন সৌমেন মহাপাত্র৷ ক্ষোভের সঙ্গে তিনি জানান, দল অথবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি আগাম জানানোর সৌজন্যটুকুও দেখানো হয়নি৷ তাঁর কথায়, ‘কী কারনে নিরাপত্তা রক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে জানিনা, আমাকে জানানো হয়নি, যেটা আমার কাছে বেদনাদায়ক।’
তবে তিনি দল ছাড়ছেন কি না, অথবা বিজেপি-তে যোগ দেবেন কি না, এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি তমলুকের বিধায়ক৷ এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্বও সৌমেনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলের৷
