এদিনের বক্তৃতায় আইনশৃঙ্খলা প্রশ্ন থেকে শুরু করে কর্ম সংস্থান, নারী নিরাপত্তা থেকে আদিবাসীদের পরিস্থিতি সব দিকই গুরুত্ব দিতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে৷ সেখানেই তিনি বাংলার জনবিন্যাস নিয়ে আরও একবার উদ্বেগপ্রকাশ করেন এবং গোটা পরিস্থিতির পিছনে বাংলার বর্তমান শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করেন৷
advertisement
ব্রিগেডের ময়দান থেকে বাংলার অনুপ্রবেশ সমস্যা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘‘বিভাজন দেখা যাচ্ছে এরাজ্যে। অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে এরাজ্যে। আর এর জন্য সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী বাংলার মা বোনেরা। ’’
মোদির অভিযোগ, ‘‘বাংলার জনবিন্যাসই বদলে গেছে৷ বাঙালি হিন্দুদের এখানে সংখ্যালঘু করে দেওয়া হচ্ছে৷ ওরা হিন্দুদের ভোটব্যাঙ্ক মনে করে না৷ তাই বাংলাকে অসুরক্ষিত বানিয়ে ফেলেছে৷ কোটি কোটি বাঙালিকে শেষ করার চেষ্টা করছে৷’’
নরেন্দ্র মোদির অভিযোগ, বাংলার ‘বাইরে থেকে আসা’ এই সমস্ত মানুষদের জন্যেই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে বর্তমান সরকার৷ মোদি বলেন, ‘‘বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে মহিলারা সুরক্ষিত থাকবে। এটা মোদির গ্যারান্টি। তৃণমূলের গুন্ডারাজ থাকবে না। কেউ বাঁচাতে পারবে না। আপনাদের ভয় দেখাচ্ছে। এরা সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন দেয়। এরা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়। আজ মায়েরা কাঁদছে। বাঙালিরা বাংলা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। আজ বাংলার রুটি, বেটি, মাটি বিপন্ন। অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার জমি দখল করছে। জনবিন্যাস পালটে গিয়েছে। বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল করছে। ভোটব্যাঙ্কের জন্য করছে। তাই এসআইআরের বিরোধিতা করছে।’’
মোদির হুঁশিয়ারি, ‘‘এখানে খোলাখুলি ধমক দেওয়া হচ্ছে যে একটি বিশেষ সম্প্রদায় আপনাদের খতম করে দেবে। সংবিধানের কুরশিতে বসে এমন কথা আপনার মুখে শোভা পায় না। ধমকানোই তৃণমূলের রাজনীতি। বাংলায় ভয়ের মহল বানিয়ে রাখা হচ্ছে, দুনিয়ার তা দেখা প্রয়োজন।’’
নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ‘‘বাংলা দেশভাগ দেখেছে। অনুপ্রবেশকারীদের অত্যাচার দেখেছে। বাংলায় বামেদের সময় হত্যা অত্যাচার বেড়েছিল। তাই বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে এনেছিল ভরসা করে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস বামেদের গুণ্ডা মাফিয়াদের নিজেদের দলে নিল। আজ বাংলায় অপরাধীদের খোলা হাত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় কোনও মেয়ে নিরাপত্তা নয়। বাংলার কোনও জায়গা সুরক্ষিত নয়। কলেজে ধর্ষণ হচ্ছে। আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণ। অপরাধীরা হয় তৃণমূল নেতা নয় তাদের আশ্রিত। মানুষ আর জি কর ভোলেনি। সন্দেশখালি ভোলেনি।’’
