চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। একাধিকবার কমিশনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এর জেরে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আদালত কিছু নির্দেশ দিয়েছে, তবুও কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
advertisement
কিনতে হয় না, মাটির নীচেই গ্যাসের খনি! ১৪ মাস ধরে যে ভাবে রান্না করছেন এই পরিবার, জোরহাটে চমক
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন, কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মডেল কোড ভঙ্গের প্রমাণ ছাড়াই রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে হঠাৎ বদলি করা হয়েছে। চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি এবং ডিজিপি-সহ বহু সিনিয়র অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি। SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন নতুন জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) কাজেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এছাড়াও, রাজ্যের ১৫ জন সিনিয়র পুলিশ অফিসারকে অন্য রাজ্যে অবজার্ভার হিসেবে পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে একে ‘কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মার্চ-এপ্রিল মাসে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ায় বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যাহত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বাইরের অফিসারদের স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনের। তাঁর অভিযোগ, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আড়ালে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। নির্বাচন আসন্ন থাকা সত্ত্বেও নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। একতরফা ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
