রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরই সাংবাদিক বৈঠক থেকে মহম্মদ সেলিম বলেন, “এতগুলি মানুষকে ডি ভোটার করা আইনসম্মত নয়। হয় ভোটার হবে, নয় ভোটার হবে না। প্রথমে বলা হয়েছিল ম্যাপিং, তারপর যারা ম্যাপিংয়েও নাম এস্টাবলিশ করেছিল, তারপরও তাদের নাম নানা ছল-ছুতোয় বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিডিও, এসডিও, ডিএম অফিস কীরকম দলদাসে পরিণত হয়েছে তার প্রমাণ। বিএলও, সিও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।”
advertisement
আরএসএস-বিজেপির ইচ্ছেতেই নির্বাচন কমিশন এমনটা করেছে বলে অভিযোগ সেলিমের। তিনি বলেন, “এক্সকিউটিভ ফেল করার পর বিচার ব্যবস্থার হাতে পড়েছে। পুলিশে ছুঁসে ১৮ ঘা। আর আদালতে ছুঁলে কত ঘা হবে তার কোনও ঠিক নেই। এই যে ঘেটে ঘা করল ইচ্ছাকৃতভাবে ইসিআই করেছে। শুধুমাত্র আরএসএস-বিজেপির ইচ্ছা পূরণের জন্য। মতুয়া-উদ্বাস্তু-ছিন্নমূল মানুষ-বাস্তুহারা মানুষ-আদিবাসি-তপশীলি-সংখ্যালঘু মুষলমান-মহিলা-অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের ভোটদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা সবার ভোটের পক্ষে।”
কমিশনকে তোপ দেগে সেলিম আরও বলেন, “সবার জন্য যারা একটা সুস্থ ভোটার লিস্ট তৈরি করতে পারে না, তারে কীভাবে সুষ্ঠুভাবে, অবাধ এবং নিরেপক্ষভাবে ভোট সংগঠিত করবে। কিন্তু ভোটার লিস্ট যারা সুষ্ঠুভাবে করতে পারল না, নিরেপক্ষভাবে করতে পারল না, সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত হতে পারল না, বিশেষ বিশেষ জায়গায়, বিশেষ বিশেষ ধর্ম, বিশেষ বিশেষ বুথ, বিশেষ বিশেষ এলাকায়, একেবারে সংখ্যাতত্ত্ব ধরে ভোটের ফলাফলকে পূর্ব নির্ধারিত করার জন্য এটা করা হয়ছে।”
শেষে হুঙ্কারের সুরে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন,” আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। আন্দোলন আমাদের চলছে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। কোনো বিভাজনের রাজনীতি এখানে হবে না। আমরা আমাদের আইনজীবী সংগঠনগুলির সঙ্গে কথা বলেছি। গণতন্ত্র প্রেমি, মানবতা প্রেমি সকল আইনজীবীর কাছে আবেদন মহকুমা আদালত, জেলা আদাবত, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আমাদের আইনজীবীরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলবে। আক্রান্ত মানুষের পাশে আমরা থাকব। শেষ পর্যন্ত লড়ে আমরা এই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করব।”
প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেল চারটেই বাংলা সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ দুই দফায় ভোট হবে। ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। গণনা হবে ৪ মে। প্রথম দফায় ভোট হবে ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে ১৪২টি আসনে। প্রথম দফায় ভোট হবে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম জেলায়। আর দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগণা, হাওড়া, হুগলি. পূর্ব বর্ধমান, নদিয়ায়।
