বাবা দর্জির কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। স্কুল কলেজে পড়ার সময়ে বাবাকে এই দর্জির কাজে সাহায্য করতে হয়েছে। এখনও সময় পেলে হাতে হাত লাগিয়ে কাজ করে দেন। তবে পড়াশোনা থেকে সরে আসেননি, পরিবারের তরফে আর্থিক অসচ্ছ্বলতা থাকলেও কোনওদিন বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পড়াশোনার ক্ষেত্রে উন্নতমানের সুযোগ সুবিধাও পাননি। কখনও শিক্ষক-শিক্ষিকা, অধ্যাপকের থেকে মিলেছে সাহায্য। বর্তমানে গবেষণার কাজ করতে সেই পড়ুয়া যাচ্ছেন সুদূর আমেরিকা। খড়গপুর -২ ব্লকের বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়নাথ দাসের লড়াই এবং লড়াই শেষে সাফল্য অবাক করেছে সকলকে। তিনি রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করতে যাচ্ছেন আমেরিকা। তাঁর সাফল্যে খুশি এলাকার সকলে।
advertisement
ছোট থেকেই অভাবের সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা।অভাবকে জয় করে শুধু মনের জোরকে সঙ্গী করেই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। আইআইটি হায়দরাবাদ থেকে করেছেন উচ্চশিক্ষা।ছোট থেকেই রসায়ন বিষয়ের উপর আগ্রহ ছিল। সেই লক্ষ্যেই অবিচল থেকে এবার গবেষণা সংক্রান্ত পড়াশোনার জন্য আমেরিকার এক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
আরও পড়ুন : প্রায় ৩০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে নবাবি আমলের অসমাপ্ত স্থাপত্য, জঙ্গল সাফ করে তৈরি হবে নতুন পর্যটন-আকর্ষণ
উল্লেখ্য, প্রিয়নাথের বাবা মনোজকুমার দাস সামান্য দর্জির কাজ করেন। জামা কাপড় সেলাই করে তিনি আয় করেন।মা শ্যামলী দাস গৃহিণী। দুই ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন তাঁরা, করিয়েছেন উচ্চশিক্ষা। বড় ছেলেও গবেষণা করেন, তবে ছোট ছেলে প্রিয়নাথ এ বার পাড়ি দেবে আমেরিকায়। আগামীতে অধ্যাপনা করার শখ তাঁর। শুধু তাই নয়, আগামীতেও তাঁর এই গবেষণার পরিধি আরও বাড়াতে চান তিনি।