মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর সাথে সাথেই তাই ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে বালিহাটি গ্রামের আপামর বাসিন্দাদের একটাই দাবি, স্কুলের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, অবিলম্বে নতুন একটি ভবন বা দু’টি কক্ষের অনুমোদন দেওয়া হোক। স্থানীয় বিধায়ক, বিডিও থেকে বিভিন্ন দপ্তরে তাঁরা আবেদন জানালেও, কেউই সাড়া দেননি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায় ‘বাল্যবিবাহ’ রুখতে স্কুলের অবদানের কথা বারবার স্মরণ করান তাঁরা। হারু খান, সমর মণ্ডল, অরুণ ঘোষ, এরসাদ খান, সামসুদ্দিন মল্লিক, ইনসান খান, আইনুদ্দিন খান প্রমুখ অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা বলেন, বালিহাটি গ্রামের আশেপাশে হাইস্কুল বলতে অন্তত দশ কিলোমিটার। নদী পেরিয়ে কিংবা জাতীয় সড়ক উজিয়ে রওনা দিতে হতো বাড়ির মেয়েদের। এত দূরে মেয়েদের পাঠানোর চেয়ে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়াকেই শ্রেয় বলে মনে করতেন গ্রামবাসীরা। বাসিন্দারা নিজেদের মুখেই তা স্বীকার করেন। তবে, এখন তাঁরা অনেক সচেতন। গত দু’বছরে এ গ্রামে বাল্যবিবাহের হারও অনেকটাই কমেছে বলে দাবি তাঁদের।
advertisement
স্কুলের একমাত্র শিক্ষিকা (গণিত বিষয়ের) অনিন্দিতা কুন্ডু বলেন, ‘একটা সময় এই গ্রামের ৯০ শতাংশ মেয়েদেরই নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে দেওয়া হতো। অথচ, মেয়েদের পড়াশোনা করার খুব ইচ্ছে। কিন্তু, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্কুল অনেক দূরে হওয়ার বাবা-মা বিয়ে দিতে দিতেন। এই মেয়েদের কথা ভেবেই, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হই।’ তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোহনপুর ব্রিজের উপর দিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রাম যাচ্ছিলেন। মোহনপুর এলাকাতেই কয়েকজন ছাত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন অনন্দিতা দিদিমণি। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পৌঁছনো মাত্রই চিৎকার করে ওঠে ছাত্রীরা- ‘দিদি দাঁড়ান দাঁড়ান…আমরা পড়তে চাই।’ গাড়ি থামান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পড়ুয়াদের আবেদন ছিল, তাঁদের জুনিয়র হাইস্কুলকে মাধ্যমিকে (নবম-দশম অবধি) উত্তীর্ণ করা হোক। শিক্ষিকার মুখ থেকে বাল্যবিবাহের সমস্যার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদন দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গ্রামবাসী থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা। তবে, সকলেরই কাতর আর্জি, দুটো রুম অন্তত করে দেওয়া হোক ছেলেমেয়েগুলোর জন্য। নাহলে আগামী গরমে বা বৃষ্টিতে তারা ক্লাস করবে কোথায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত ডিআই তথা খড়্গপুর মহকুমার এডিআই উত্তম মাজি বলেন, ‘জানিনা রুমের জন্য ওঁরা কোথায় আবেদন জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে, আবেদনপত্র নিয়ে আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করলে, আমরা দ্রুত তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব। স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।’
