পরীক্ষার্থীদের কোন কোন বিষয় মাথায় রাখতে হবে জীবনবিজ্ঞানে নম্বর তোলার জন্য?
প্রত্যেক বছর যেমন পাঁচটি অধ্যায় থাকে ৯০ নম্বরের পরীক্ষায়, এবার কিন্তু তার অর্ধেক থাকবে। এবার প্রথম তিনটি অধ্যায়ের উপর পরীক্ষা হবে। সেক্ষেত্রে অবজেকটিভ বা বড় প্রশ্নের কিন্তু অপশন কম থাকবে। কিন্তু পরীক্ষা হবে ৯০ নম্বরেই। এবারে অনেক বেশি ডিটেল পড়াশোনা প্রয়োজন ছাত্রছাত্রীদের। অর্থাৎ, গভীরে ঢুকে পড়াশোনা ও প্রস্তুতি নিতে হবে পরীক্ষার্থীদের। বিজ্ঞানের সেভাবে কোনও সাজেশন দেওয়া যায় না। আর মাধ্যমিকে জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষায় চারটি গ্রুপ থাকে, এ, বি, সি, ডি। তার মধ্যে এ ও বি পুরো অবজেকটিভ। ১৫ ও ২১ নম্বরের পরীক্ষা। এই ৩৬ নম্বর অবজেকটিভ প্রশ্নের উত্তর কিন্তু খুব ভালো ভাবে দিতে হবে পরীক্ষার্থীদের। এখানে যেন কোনও ভাবেই নম্বর কাটা না যায়। আর এর জন্য খুঁটিয়ে পড়তে হবে। কোনও সাজেশন দেওয়া যায় না এর জন্য। একটু খুঁটিয়ে পড়লেই কিন্তু এই ৩৬ নম্বরের উত্তর দেওয়া খুব সোজা।
advertisement
আরও পড়ুন: খুচরোর সমস্যা মেটাতে গলায় QR কোড ঝুলিয়ে ভিক্ষা করেন 'ডিজিটাল ভিখারি' রাজু!
এবারের মাধ্যমিকের প্রশ্নের জন্য লাস্ট মিনিট সাজেশন চাইলে কী বলবেন?
গ্রুপ ডি-তে ডায়াগ্রাম আসেই। মানুষের চোখ আসার সম্ভাবনা এবার প্রবল। তার সঙ্গে জরুরি মাইটোসিসের পর্যায়গুলো। উদ্ভিদ ও প্রাণী দু'টোরই। খুবই জরুরি এবার। এই দু'টোর মধ্যে আশা করি একটা ডায়াগ্রাম আসবেই। তার পরে হেরিডিটি বলে একটা অধ্যায় রয়েছে। শেষবার যেহেতু মাধ্যমিক হয়নি, তাই এক শংকর জনন, দ্বি শংকর জনন থেকে যে কোনও একটা আসবেই। এটা কিন্তু পুরো অঙ্কের মতো। কোনও নম্বর কাটার জায়গা থাকে না। আরেকটা জিনিস বলব যে, পরীক্ষার্থীরা খাতায় যখন ক্রসগুলো করে, তার সঙ্গে মেন্ডেলের যে সূত্র, যেটা কনক্লুশন, সেটা কিন্তু দেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। ওটা না দিলে কিন্তু উত্তরটা সম্পূর্ণ হয় না। এর পর রয়েছে জনন। জনুক্রম থেকে একটা প্রশ্ন এবার আসবেই। মাইক্রোপ্রপাগেশন থেকে প্রশ্ন আসবেই। মাইটোসিস ও মিওসিসের গুরুত্ব খুব ভালো করে পড়তে হবে। চোখের ক্ষেত্রে কোষের পার্থক্য পড়তে হবে। ২ নম্বরের প্রশ্নের জন্য জিনগত রোগ যেমন, থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া থেকে প্রশ্ন আসেই। ছেলেদের হিমোফিলিয়া বেশি হয়, মেয়েরা বাহক হয়, কেন? এই প্রশ্নটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলন-গমন থেকে মাছের মায়োটম পেশি, পাখনা, পটকার ভূমিকা খুবই জরুরি। হরমোনের প্রতিটার কাজ, মধুমেহ রোগ, বহুমূত্র রোগের পার্থক্য-- এসব পড়ে যেতেই হবে এবার হলে।
আরও পড়ুন: বাসে ওঠা যায় না, বিদেশ থেকে কিনতে হয় জুতো! ভারতের সবচেয়ে লম্বা পরিবারটিকে চেনেন?
জীবনবিজ্ঞানের উত্তরে ছবির ব্যবহার করতে হয়, ছবি কি সব উত্তরেই দিলে ভালো?
জীবনবিজ্ঞানের ছবির ক্ষেত্রে পেনসিলে ছবি আঁকবে। অবজেকটিভে ছবির কোনও প্রয়োজন নেই। বড় প্রশ্নের ক্ষেত্রে অবশ্যই যেখানে ছবি চাইবে সেখানে তো দিতেই হবে। তবে বাকিগুলোতে সময়ের কথা মাথায় রেখে ছবি আঁকতে হবে পরীক্ষার্থীদের। সময় থাকলে ছবি আঁকবে। কোষচক্রের বিবরণ চাইলে ছবি আঁকতেই হবে। কিন্তু ছবি আঁকতে গিয়ে এমন সময় ব্যয় করা যাবে না যে, অন্য উত্তরগুলোই দেওয়া গেল না। সময় মাথায় রাখতে হবে। ১৫ মিনিট রিডিং টাইম, আর ৩ ঘণ্টা পরীক্ষা। এর মধ্যেই পুরোটা শেষ করতে হবে। গোলাপি, লাল, সবুজ কালি একদম খাতায় ব্যবহার করবে না। নীল ও কালো কালি ব্যবহার করতে হবে। ডায়াগ্রামের ক্ষেত্রে সবই পেনসিলে করতে হবে।
অনলাইন ক্লাসের পর অফলাইনে মাধ্যমিক। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কী টিপস দেবেন?
পরীক্ষার জন্য ছেলেমেয়েরা সবাই প্রস্তুত আশা করি। অফলাইনে পরীক্ষার জন্য আলাদা করে কোনও টিপস দেব না। শুধু বলব যে, পরীক্ষার খাতায় গ্রুপ অনুযায়ী উত্তর লিখতে হবে। এলোমেলো করে উত্তর লিখলে হবে না। গ্রুপ এ লিখলে সেটা শেষ করে, তবেই গ্রুপ বি-তে যাব। খাপছাড়া করলে হবে না। টেস্ট পেপার এবার অনেকেই খুব কম ঘেঁটেছে মনে হল। তাই এই লেখার নিয়ম পরীক্ষার খাতায় মেনে চলতে হবে। পরীক্ষার্থীদের মাথায় রাখতে হবে, পরীক্ষকদের কাছে একসঙ্গে ২০০-২৫০ খাতা আসে মূল্যায়নের জন্য। সেখানে একটা ভালো খাতা সেটাই, যেখানে নিয়ম মেনে এলোমেলো ভাবে উত্তর লেখা নেই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ভাবে গুছিয়ে লেখা হয়েছে। আর সেই খাতা কিন্তু অবশ্যই বেশি ভালো ফল করবে। গ্রুপ মেনে উত্তর লেখাটা খুবই জরুরি এক্ষেত্রে। অভিভাবকদেরও বলব, মাথা ঠান্ডা রেখে বাচ্চাদের পরীক্ষাটা দিতে দিন। সব স্কুলেই করোনাবিধি মেনে পরীক্ষা হবে। আর আমি জানি যে, বাচ্চারা একদম প্রস্তুত, পড়াশোনা তারা নিশ্চয়ই করেছে। শুধু টেনশন করা যাবে না। বাবা-মা-পরীক্ষার্থী সবাইকেই এটা মাথায় রাখতে হবে।
গ্রাফিক- মধুরিমা দত্ত
