এমন পরিবেশেই বেড়ে উঠেছে সুমিলা।এই বনবস্তি থেকে এবারই প্রথম কোনও পড়ুয়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে। সেই পড়ুয়ার নাম সুমিলা ওরাওঁ। পানবাড়ি ভবানী হাই স্কুলের ছাত্রী সে। বাবা মঞ্চাল ওরাওঁ কাজের সূত্রে বর্তমানে বাইরে থাকেন। মা রূপালি ওরাওঁ কৃষিকাজ ও চা বাগানে কাজ করে কোনওমতে সংসার চালান। অভাব-অনটনের মধ্যেও চার মেয়েকে শিক্ষিত করে তুলতে আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পরিবারটি।
advertisement
এখন দেখছেন স্থল? আগে এই ৫ স্থানই ছিল অথৈ সমুদ্রের তলায়! জানেন কোনগুলো?
প্রতিদিন ভোরবেলা সাইকেল নিয়ে গরুমারা জঙ্গলের মধ্য দিয়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় সুমিলা স্কুল ও টিউশনের উদ্দেশে। হাতি, গন্ডার, বাইসনের মতো বন্যপ্রাণীর ভয় নিয়েই ছুটে চলে তার পড়াশোনার পথ। তবুও কোনওদিন থেমে থাকেনি সে। গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শুরু করে আজ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হওয়া—এই যাত্রা সহজ ছিল না। সুমিলার স্বপ্ন বড় হয়ে নার্স হওয়ার। বনবস্তির মানুষদের সেবা করতে চায় সে।
তার মা রূপালি ওরাওঁ বলেন, “যতদূর সামর্থ্য আছে, মেয়েকে পড়াতে চাই। পড়াশোনাই একমাত্র পথ।” এই প্রথম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পেয়ে উচ্ছ্বসিত গোটা বুধুরাম বনবস্তি। সুমিলার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হবে আগামী প্রজন্ম এই আশাতেই দিন গুনছেন প্রতিবেশীরা।প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা এই মেয়ের স্বপ্ন সফল হোক সেই প্রার্থনাতেই এখন তাকিয়ে গোটা গ্রাম।