বর্ধমান শহরের সবুজে ঘেরা গোলাপবাগ, বর্ধমান রাজাদের সেই সোনালি অতীত আজ এক আধুনিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হলেও, ইতিহাসের পাতায় তার গুরুত্ব বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি। বর্ধমানে রাজ আমলের তৈরি গোলাপবাগ-সহ নানা স্থাপত্য আজও রয়েছে শহরের প্রতিটি কোনায়।বর্ধমান রাজপরিবারের শৌখিনতার এক জীবন্ত নিদর্শন হল এই গোলাপবাগ। ১৮৮৪ সালে রাজা বিজয় চাঁদ মেহতাব এই গোলাপবাগ তৈরি করেন। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ গাছ, প্রায় ১৫০ রকমের গাছ, জলের ধারা, হাওয়া মহল ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন পশু-পাখি নিয়ে একটি চিড়িয়াখানাও ছিল এখানে, যা পরে কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরিত হয়।
advertisement
পঞ্চাশের দশকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পরে বর্ধমান রাজা উদয় চাঁদ মাহতাব তাঁর প্রায় বর্ধমানের পুরো সম্পত্তি রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের পরিকল্পনায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রূপ পায়। হাওয়া মহল অর্থাৎ রাজাদের বিশ্রামের জন্য তৈরি ‘দার-উল-বাহার’ আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। রাজার রাজত্ব না থাকলেও সেই ইতিহাস যেন আজও জীবন্ত এখানে।





