কলেজ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর অফ কলেজেস), পিজি স্টাডিজের ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের ডিন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপক পদ মর্যাদার অন্তত দু’জন প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি হবে। সেই কমিটির দায়িত্ব থাকবে কলেজে যথাযথ গাইড রয়েছেন কি না, গবেষণা করার মত সব পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিসার জানান, আসলে কর্তৃপক্ষ চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই গবেষণা হোক। এ ক্ষেত্রে কোনও আপোস করতে নারাজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপশি রাজ্য স্তরের স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট বা সেট এবং সর্বভারতীয় ক্ষেত্রের প্রবেশিকা পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজাবিলিটি টেস্ট বা নেট, গেট এবং জিপ্যাট-কেই যোগ্যতার নির্ণায়ক হিসেবেই চূড়ান্ত করতে চাইছেন। নতুন বিধিতে স্টুডেন্ট রিসার্চ অ্যাডভাইসারি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রিসার্চ সুপারভাইজারকে। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “গবেষণার মান আরও উন্নত করতে চলেছি আমরা। যে কারণে বিধিতে কিছু বদল হল।”
advertisement
প্রসঙ্গত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি নতুন নিয়ম করেছে পিএইচডি বিষয়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর হাত ধরে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে সহজেই পাওয়া যায় যে কোনও প্রশ্নের উত্তর। স্কুল প্রজেক্ট বা হোম ওয়ার্ক-এর ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীরা এআই অ্যাপের সাহায্য নিয়ে থাকে। এই পদ্ধতি সীমাবদ্ধ নেই শুধু স্কুল স্তরে। পিএইচডি গবেষকদের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বার তাতে রাশ টানতে উদ্যোগী হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডির ক্ষেত্রে আনতে চলেছে নয়া বিধি। আসন্ন সিন্ডিকেটে বিষয়টি অনুমোদন পেলে তা প্রকাশ্যে আনা হবে। বিধি অনুসারে, কোনও পিএইচডি গবেষণাপত্রে ১০ শতাংশের বেশি এআই ব্যবহার করা যাবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে অন্যের গবেষণা বা বই টুকে গবেষণাপত্র লেখা হচ্ছে কি না এই ধরনের ‘প্লেগিয়ারিজ়ম’ আটকানোর জন্য ইউজিসি অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাপত্রে কতটা প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা ধরার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। যদি দেখা যায় কোনও গবেষণাপত্রে ১০ শতাংশের বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে, তা হলে গবেষণাপত্রটি বাতিল করা হবে।
