চেন্নাইয়ের বাসিন্দা ওই দম্পতির অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি উদয়পুরের ওই অভিজাত হোটেলে একটি ঘর বুক করেন তাঁরা৷ চেন্নাইয়েক জেলা কনজিউমার রিড্রেসাল ফোরাম (নর্থ)-এ ওই দম্পতি অভিযোগ করেন, বাথরুমে তাঁরা একসঙ্গে থাকা অবস্থায় হোটেলের একজন হাউজকিপিং বিভাগের কর্মী আচমকাই তাঁদের ঘরে ঢুকে পড়েন৷
ওই কর্মীর উপস্থিতি টের পেয়েই তাঁরা চিৎকার করে তাঁকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন বলে দাবি ওই দম্পতির৷ এমন কি, সেই সময় তাঁদের কোনও পরিষেবা প্রয়োজন নেই বলেও জানান তাঁরা৷ অভিযোগ, এর পরেও ঘর থেকে না বেরিয়ে ভাঙা দরজার ফাঁক দিয়ে ওই কর্মী বাথরুমের ভিতরে উঁকি মারেন বলেও অভিযোগ ওই দম্পতির৷
advertisement
ওই দম্পতির অভিযোগ, সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করে হোটেলের রিসেপশনে বিষয়টি জানান তাঁরা৷ অভিযোগ, তার পরেও হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেননি৷ এমন কি, ওই দম্পতির অভিযোগকেও গুরুত্ব দিতে চায়নি ওই হোটেল কর্তৃপক্ষ৷ এর পরেই হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ের জেলা কনজিউমার রিড্রেসাল ফোরাম (নর্থ)-এ অভিযোগ জানান ওই দম্পতি৷
অভিযোগ খতিয়ে দেখে জেলা কনজিউমার রিড্রেসাল ফোরাম নিশ্চিত হয়, ওই দম্পতির অনুমতি না নিয়েই তাঁদের ঘরে ঢুকে পড়েছিলেন ওই হোটেল কর্মী৷ হোটেল পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মুহূর্তের নিরাপত্তা পাওয়া গ্রাহকদের অন্যতম প্রাথমিক অধিকার বলেই জানায় জেলা কনজিউমার রিড্রেসাল ফোরাম৷ বিশেষত অভিজাত হোটেলে যেখানে গ্রাহক মোটা টাকা ভাড়া দিয়ে ঘর বুক করছেন, সেখানে তিনি ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সম্মানের সঙ্গে সময় কাটানোর আশা করতেই পারেন বলেও জানায় ওই ফোরাম৷
এক রাতের জন্য ওই দম্পতি উদয়পুরের ওই হোটেলে ৫৫,৫০০ টাকা দিয়ে ঘর বুক করেছিলেন৷ সেই ঘর ভাড়ার গোটাটাই ৯ শতাংশ সুদ সহ দম্পতিকে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেয় ফোরাম৷ এর পাশাপাশি ওই দম্পতির ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ১০ লক্ষ টাকা এবং আইনি খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা দেওয়ারও নির্দেশ দেয় ফোরাম৷
যদিও উদয়পুরের ওই হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিথিদের গোপনীয়তা রক্ষা, তাঁদের নিরাপত্তা এবং সম্মানকেই সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয় তারা৷ এই দর্শনের উপরে দাঁড়িয়েই তারা পরিষেবা দিয়ে আসছে৷ চেন্নাইয়ের জেলা কনজিউমার রিড্রেসাল ফোরাম যে নির্দেশ দিয়েছে তা পর্যালোচনা করে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ওই হোটেল কর্তৃপক্ষ৷
