কেরিয়ার গড়ার জন্য ভিন্ন পথ বেছে নেওয়া কিন্তু বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সহজেই সাফল্য আসে না। তবে ওই দুই যুবক নিজেদের উদ্যোগ সফল করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ফলে এখন তাঁরা পোহা বিক্রি করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। শুনে নেওয়া যাক তাঁদের সাফল্যের কাহিনী।
আইটি সেক্টরে কর্মরত ছিলেন ওই দুই যুবক:
advertisement
নাগপুরের বিখ্যাত ব্র্যান্ড পোহেওয়ালা দুই বন্ধুর কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের দৃষ্টান্ত। চাহুল বলপান্ডে এমবিএ করেছেন আর পবন ওয়াদিভাসমে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছেন। দু’জনেই একসঙ্গে একটি আইটি প্রোজেক্টে কাজ করেছেন। কিন্তু প্রতি মাসে বেতন আসতে দেরি হত, ফলে নিজেদের পরিশ্রমের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হত তাঁদের। এমতাবস্থায় তাঁরা নতুন পথের সন্ধান শুরু করেন। ভাবতে থাকেন যে, এমন কী করা যায়, যাতে তাঁদের পরিশ্রম বিফলে না-যায়! এর মধ্যেই তাঁরা ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে ভাগ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। আসলে দু’জনেই উচ্চশিক্ষিত এবং বাজার সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা স্পষ্ট। সেই সঙ্গেমানুষের চাহিদাও বুঝতে পেরেছিলেন দুই বন্ধু। তার পরেই নাগপুরে পোহা ব্যবসার সিদ্ধান্তে আসেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: প্রেমিকাকে দিন, উপার্জনও করুন, দেখে নিন গোলাপ চাষের সাতসতেরো!
রাতেই শুরু হয় পোহা বিক্রি:
ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক কৌশলও ছকে ফেলেন। যেখানে ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিপণন ও পণ্যের মানের দিকেও তাঁরা নজর দেওয়ার কথা ভাবেন তাঁরা। ২০১৮ সালের মে মাসে শুরু হয় যাত্রা। তবে তাঁরা মূলত রাতেই এই ব্যবসা চালাতেন। রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বিক্রি হত পোহা। সেই সঙ্গে একটি ওয়েবসাইটও চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অনলাইনেও ব্যবসা করতে থাকেন চাহুল-পবন। চাহুল বলপান্ডের কথায়, পুরো পরিকল্পনা ছকে তবেই ব্যবসায় নেমেছিলেন তাঁরা। ফলে প্রচুর সাড়াও এসেছিল।
পোহেওয়ালা কী ভাবে ব্র্যান্ড হয়ে উঠল?
চাহুল বলপান্ডের বক্তব্য, শুধুমাত্র পোহা বিক্রয়ই তাঁদের লক্ষ্য ছিল না। তাঁরা গ্রাহকদের পছন্দ-অপছন্দের দিকেও নজর রাখতেন। তা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোহা আনেন তাঁরা। এমনকী অর্গানিক পোহাও বিক্রি শুরু করেন। এ-ছাড়াও তাঁরা ১৩ রকম পোহা তৈরি করেন। এখানে এক ছাদের তলায় একসঙ্গে পাওয়া যায় পনির পোহা, ইন্দোরি পোহা, নাগপুর স্পেশাল তারি পোহা, চিবড়া পোহা, মিশ্র পোহা প্রভৃতি। পোহা নিয়ে এমন এক্সপেরিমেন্টের ফলে এর খ্যাতি নাগপুর ছাড়িয়ে গোটা মহারাষ্ট্র এমনকী গোটা দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশেও অনেকেই পছন্দ করছেন এই পোহা।
আরও পড়ুন: অবশেষে স্বস্তি অশোধিত তেলের দামে! কলকাতায় পেট্রোল-ডিজেলের দামে কত হল জানুন
পোহেওয়ালার যাত্রা দৃষ্টান্ত গড়েছে:
এখনও পর্যন্ত মোট ১৩টি আউটলেট খুলেছে পোহেওয়ালা। এই ব্র্যান্ডের জন্য শতাধিক মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানও হয়েছে। আর প্রতিটি আউটলেট থেকে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। চাহুল বলপান্ডের মতে, সব ক’টি আউটলেটের মাসিক আয়ের হিসেব করলে দেখা যাবে, তা ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। তবে ব্যবসার এই সাফল্যের পিছনে শিক্ষারই সব থেকে বড় ভূমিকা, এমনটাই মনে করেন ওই দুই যুবক। চাহুল বলপান্ডের মতে, কোনও ব্যবসাই ছোট কিংবা বড় নয়। উদ্ভাবনী সূত্র, কোয়ালিটি এবং মার্কেটিংয়ের মতো বিষয়গুলিই ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
