বর্তমানে গ্রামবাংলার কৃষিজীবী মানুষের কাছে টমেটো কেবল একটি সবজি নয়, বরং স্বনির্ভরতার নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এবছর টমেটোর ফলন ভাল হলেও বর্তমানে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন চাষিরা। কিন্তু সেই সংকটকেই এখন সম্ভাবনায় রূপ দিচ্ছে সিএডিসির উদ্যোগে শুরু হওয়া টমেটো কেচআপ তৈরির প্রকল্প। বাজারে টমেটোর দাম যখন তলানিতে, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় সংরক্ষণের অভাবে মাঠেই পচে নষ্ট হয় বিপুল পরিমাণ ফসল। এই অপচয় রুখতে এবং চাষিদের লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে ঘরোয়া ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে টমেটো প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়েছে।
advertisement
কাঁচা টমেটো জলের দরে বিক্রি না করে তা দিয়ে উচ্চমানের কেচআপ বা সস তৈরি করায় ফসলের মূল্য বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। ১০০ শতাংশ খাঁটি ও রাসায়নিকমুক্ত এই ঘরোয়া সসের চাহিদা সাধারণ মানুষের কাছেও ব্যাপক। এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেন গ্রামীণ মহিলারা। টমেটো ধোয়া, বাছাই করা থেকে শুরু করে সস তৈরি এবং বোতলজাতকরণ—পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। এর ফলে টমেটো থেকে কেচআপ তৈরি করে কাজ করে মহিলারা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। মহিলাদের হাতে অর্থ আসায় গ্রাম স্তরে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ বাজারকে শক্তিশালী করছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সিএডিসির তত্ত্বাবধানে তৈরি এই কেচআপ কেবল স্থানীয় বাজারে নয়, বরং সরকারি বিভিন্ন স্টল ও প্রদর্শনীতেও বিক্রির জন্য পাঠান হচ্ছে। কোনও কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভ ছাড়াই তৈরি এই সস স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের নজর কাড়ছে। এবিষয়ে সিআইডিসির প্রজেক্ট অফিসার ডক্টর উত্তম লাহা বলেন, “বর্তমানে টমেটোর দাম অনেক কম। ফলে টমেটো বাজারে বিক্রি না করে সস তৈরি করাটা লাভজনক। এর ফলে যেমন গ্রামের মহিলা কাজ করছে তেমনই ১০০ শতাংশ খাঁটি টমেটো সস তৈরি হচ্ছে।”
টমেটো কেচআপের এই ‘লাল বিপ্লব’ কেবল স্বাদের পরিবর্তন আনছে না, বরং গ্রামীণ এলাকার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে সমৃদ্ধির বার্তা। তমলুক ব্লকের বেশ কিছু মহিলারা সিএডিসিতে টমাটো সস তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।





