পরিবারের আয়ও কমে আসে। সেই কঠিন সময়েই নিজের ভিতরের প্রতিভাকে চিনতে শেখেন তিনি। ছোট্ট একটি শখই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে জীবনের বড় ভরসা।
লকডাউনের দিনগুলোতে বাড়িতে বসে মেয়ের ছবি আঁকার অভ্যাস লক্ষ্য করতেন তিনি। মেয়ের হাতে তুলির টান দেখে আগ্রহ জন্মায় তাঁর মনেও। একদিন মেয়ের কাছ থেকেই তুলে নেন তুলি ও রং। শুরু হয় নতুন শেখার চেষ্টা। প্রথমদিকে ছিল দ্বিধা ও অনভিজ্ঞতা। কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়তে থাকে আত্মবিশ্বাস। মাটির ছোট সামগ্রীর উপর আঁকতে গিয়ে তৈরি হতে থাকে সূক্ষ্ম ডিজাইন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাত পাকতে থাকে। নিজের স্বামীও উৎসাহ দিতে শুরু করেন। তখনই বুঝতে পারেন, এই কাজ থেকেই হয়তো তৈরি হতে পারে নতুন রোজগারের রাস্তা।
advertisement
লকডাউনের সময় স্বামীর ব্যবসা বন্ধ থাকে। সংসারে অর্থকষ্ট দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়া থেকে মাত্র ৫০০ টাকার মাটির সামগ্রী কিনে আনেন তিনি। বাড়িতেই বসে শুরু করেন ডিজাইন করার কাজ। মেয়ের রং ও তুলি ব্যবহার করেই তৈরি করতে থাকেন নানান ধরনের শিল্পকর্ম। ফুলদানি, শোপিস, মাটির পাত্র—সবকিছুতেই আনেন নতুনত্ব। তারপর সেই তৈরি জিনিসের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেতাদের নজর কেড়ে নেয় তাঁর কাজ। প্রথম অর্ডার আসে কাঁথি শহরের আশপাশ থেকে। পরে জেলার বাইরে থেকেও যোগাযোগ শুরু হয়।
আরও পড়ুন: State Bank থেকে ৩০ বছরের জন্য ৬০ লাখ টাকা হোম লোন নিলে কত EMI দিতে হবে ?
ক্রমশ বাড়তে থাকে চাহিদা। এখন তাঁর নিজস্ব একটি স্টোর রয়েছে। তৈরি হয়েছে নিজস্ব ব্র্যান্ড পরিচয়। প্রতিদিনই নতুন নতুন অর্ডার আসে।
ট্রেন্ডিং ডিজাইন নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তিনি। মাটির সাধারণ সামগ্রী তাঁর হাতে পায় নতুন রূপ। অনেক গৃহবধূও তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। সংসার সামলে ব্যবসা চালানো সহজ নয়, তবু হাসিমুখেই সব সামলাচ্ছেন সঞ্চিতা দেবী। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, বড় পুঁজি নয়—প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম। বাড়িতে বসেও স্বপ্ন পূরণ করা যায়।
মদন মাইতি





