শিশুকাল থেকেই ঘাস ও বাঁশ দিয়ে নানা ধরনের জিনিস তৈরি করছেন শুভা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই কাজই তাঁর পরিবারের ঐতিহ্য। ফুলের স্ট্যান্ড, ফুলের মালা, পেন স্ট্যান্ড, ঝুড়ি—বহু ধরনের সামগ্রী তৈরি করলেও ঘাস দিয়ে বানানো টুপিই তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। এই টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
শুভার কথায়, এই টুপিগুলি পুরোপুরি আবহাওয়াবান্ধব। শীতে পরলে গরম লাগে, আর গ্রীষ্মে প্রচণ্ড তাপেও মাথা ঠান্ডা থাকে। মাথায় কোনও রকম চুলকানি বা অস্বস্তিও হয় না। একটি টুপি বানাতে তাঁর প্রায় একদিন সময় লাগে। টুপির দাম শুরু হয় ৩০০ টাকা থেকে, আকার ও কাজের জটিলতার উপর দাম বাড়ে।
advertisement
টুপি ছাড়াও তিনি বাঁশ দিয়ে ফুলের স্ট্যান্ড তৈরি করেন, যার দাম প্রায় ১০০ টাকা। ঘাসের কাঠ দিয়ে বানানো পেন স্ট্যান্ডও বিক্রি হয় একই দামে। শুভা জানান, কোন জিনিস বানাতে কতটা কাঁচামাল লাগছে এবং কতটা সময় যাচ্ছে, সেই হিসাব করেই তিনি প্রতিটি পণ্যের দাম ঠিক করেন। যত বেশি জিনিস বানানো যায়, আয়ও তত বেশি হয়।
শুভার হিসেব অনুযায়ী, যদি কোনও পণ্যে ১০০ টাকার কাঁচামাল লাগে, তাহলে তা বিক্রি করে তিনি প্রায় ৫০ টাকা লাভ করেন। অর্থাৎ ১০০ টাকার খরচে তৈরি পণ্য ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তাঁর কথায়, এই কাজ এখনও চলছে কারণ মানুষ এই সামগ্রীগুলি কিনছেন। চাহিদা না থাকলে অনেক আগেই কাজ বন্ধ হয়ে যেত।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রদেশ সরকার তাঁকে বিভিন্ন বড় শহরে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং নানা ভাবে সহায়তা করে। সম্প্রতি খাজুরাহোয় অনুষ্ঠিত আদিবর্ত স্থাপনা অনুষ্ঠানের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে নিজের তৈরি সামগ্রীর প্রদর্শনীও করেন শুভা। পরিবেশবান্ধব এই শিল্পকর্ম এখন শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং স্থানীয় ঐতিহ্যেরও পরিচয় হয়ে উঠেছে।
