জাপানের অর্থ মন্ত্রকের আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জর্জিয়েভা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে পরীক্ষা করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের কারণে আবারও বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা পরীক্ষার মুখে পড়েছে।”
বাড়িতে পাতলেই ভীষণ ‘টক’ হয়ে যাচ্ছে দই? সহজ ট্রিক জানলেই জমাট বাঁধবে সুস্বাদু, হালকা মিষ্টি দই!
advertisement
অফলাইন থাকা কি নতুন বিলাসিতা? হাইপার-কানেক্টেড বিশ্বে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কেন গুরুত্ব পাচ্ছে?
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সঙ্কট যদি তেলের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরাসরি বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। জর্জিয়েভা জানান, যদি তেলের দাম প্রায় গোটা বছর জুড়ে ১০ শতাংশ বেশি থাকে, তাহলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৪০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, “এই নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অকল্পনীয় বিষয়গুলিও ভাবতে হবে এবং তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।” মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহের পথগুলিতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বাড়তে পারে বিশ্ব মুদ্রাস্ফীতি, সতর্ক করল আইএমএফ
এদিকে ভারতের অর্থ মন্ত্রকের একটি রিপোর্টেও সতর্ক করা হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, এতে বিনিময় হার ও মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়ার কারণে।
ফেব্রুয়ারি মাসের মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এই সংঘাত ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেলেছে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ, যেখানে দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বৈশ্বিক তেল পরিবহণ হয়।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি রাজনীতিতে পড়তে পারে।
এই উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি-র দামও প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যদি এই সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা বিনিময় হার ও চলতি হিসাবের ঘাটতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।
এছাড়া বৈশ্বিক অর্থবাজারে বিনিয়োগকারীদের ‘নিরাপদ সম্পদে’ ঝোঁক বাড়লে মুদ্রার উপরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে অর্থ মন্ত্রক।
তবে রিপোর্টে এটাও বলা হয়েছে যে ভারতের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার, তুলনামূলকভাবে কম চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টে ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৬ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার ৭ থেকে ৭.৪ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী পাকিস্তানের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।
পাকিস্তান সরকার পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫৫ পাকিস্তানি টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে, যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি।
৭ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ৩২১.১৭ পাকিস্তানি টাকা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম হয়েছে লিটার প্রতি ৩৩৫.৮৬ পাকিস্তানি টাকা।
পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহের পথ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে, যার ফলেই এই মূল্যবৃদ্ধি।
এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে, বিশেষ করে রমজান মাসে যখন জীবনযাত্রার খরচ আগেই বাড়ে।
এক যাত্রী মহম্মদ নাদিম সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, “মনে হচ্ছে যেন গলায় ফাঁস আরও শক্ত করে বাঁধা হচ্ছে। কিছুই আর বুঝতে পারছি না।”
আরেক যাত্রী আসলাম কাদরি বলেন, “আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে, যার প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বের মানুষের উপর। এই সংঘাতের কারণেই পেট্রোলের দাম বেড়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে দ্বিতীয় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ দেখা দিতে পারে। কারণ পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ বাড়লে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করে।
পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব ভোক্তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনও উপায় ছিল না। দেশের জ্বালানি খাতকে স্থিতিশীল রাখা এবং আইএমএফ-এর সঙ্গে চলা আলোচনার শর্ত পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
