এলপিজি ঘাটতির প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে। রেস্তোরাঁ সংস্থা এবং এলপিজি পরিবেশকরা বলছেন যে, ঘাটতি মূলত হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাটারিং পরিষেবাগুলিতে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারগুলিকে প্রভাবিত করছে। অন্য দিকে, গৃহস্থালির প্রয়োজনে সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধের ফলে খাদ্য প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি প্রভাবিত হতে পারে। এবার এই পরিস্থিতিতে কলকাতার কী অবস্থা, সেটাই জেনে নেওয়া যাক।
advertisement
চাওম্যান, অউধ ১৫৯০ এবং চ্যাপ্টার ২-র ডিরেক্টর দেবাদিত্য চৌধুরী বলেন, “অন্যান্য মেট্রো শহরগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যদিও কলকাতায় সেটা এখনও তেমন উল্লেখযোগ্য ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না-ও হতে পারে। তবে সমগ্র ভারতের অন্যান্য শহরের মতো আমরাও সঙ্গতিহীন বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের চাপ অনুভব করতে শুরু করেছি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে রান্নাঘরের কাজকর্ম ভাল ভাবে যাতে হয়, তার জন্য আমাদের মেন্যুতে কাটছাঁট করার মতো অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হতে পারে। ইতিমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করেছি এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
Debaditya ChaudhuryDirector – Chowman, Oudh 1590 and Chapter 2
তিনি আরও বলেন যে, “তা সত্ত্বেও সমগ্র ভারত জুড়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার যে অঙ্গীকার, সেটা অপরিবর্তিত রয়েছে। এমনকী, কোভিডের সময়ে যখন বহু ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখন আমরা গোটা দেশে আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছি। সেই সঙ্গে আমাদের টিমের জন্য পূর্ণ বেতন এবং বোনাসও দিয়েছি। একটি প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত সংস্থা হিসেবে আমরা উদ্ভাবনে বিশ্বাস রাখি। আর যে কোনও পরিস্থিতিতে মানিয়ে চলার ক্ষমতা আমাদের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেও সাহায্য করবে।”
এর পাশাপাশি সিরাজ গোল্ডেন রেস্তোরাঁ-র ম্যানেজিং পার্টনার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন যে, “চলমান এলপিজি ঘাটতির ফলে রেস্তোরাঁগুলির রান্নাঘরের দৈনন্দিন কাজকর্মে ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বড়সড় মাপের রান্নার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা এবং গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এলপিজি অপরিহার্য। যদি সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতি কিন্তু ব্যস্ততম সময়ে খাবার তৈরি এবং পরিষেবার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা আশা করি যে, শীঘ্রই সমস্যাটির সমাধান হবে। যাতে রেস্তোরাঁগুলি কোনও বাধাবিপত্তি ছাড়াই গ্রাহকদের পরিষেবা প্রদান করে যেতে পারে।”
Ishtiyaque Ahmed, Managing Partner, Shiraz Golden Restaurant
শুধু রেস্তোরাঁ শিল্পেই নয়, অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রেও পড়ছে এলপিজি ঘাটতির প্রভাব। সেই বিষয়েই নিজের বক্তব্য রেখেছেন Omacme-র ডিরেক্টর নিখিল দাগা। তাঁর কথায়, “চলমান এলপিজি ঘাটতির ফলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজকর্মের উপর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমাদের পাউডার কোটিং প্ল্যান্টটি মূলত এলপিজি-র উপরেই নির্ভরশীল। আর যদি আগামী দুই দিনের মধ্যে সরবরাহ আগের জায়গায় না ফেরানো যায়, তাহলে আমরা হয়তো সাময়িক ভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হব। যদিও আমাদের কাছে ব্যাক-আপ হিসেবে ইলেকট্রিক হিটার রয়েছে। তবে ওই প্রক্রিয়াটি উল্লেখযোগ্য ভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। আর প্রক্রিয়াটি তেমন কর্মক্ষমও না। এখানেই শেষ নয়, আমাদের আপহোলস্ট্রি ইউনিটটি যে ফোম প্রস্তুতকারীদের উপর নির্ভরশীল, তারা উৎপাদনের জন্য এলপিজি-র উপরেই নির্ভর করে। আমাদের ফোম সরবরাহকারীরা ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এলপিজি সরবরাহ না হলে তাদের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। যা সরাসরি আমাদের আপহোলস্ট্রি বা গৃহসজ্জার সামগ্রীর কাজকর্মের উপর প্রভাব ফেলবে। কারণ এর জন্য আমাদের কাছে কোনও বিকল্প বা ব্যাক-আপ নেই।”
Nikhil Daga, Director Omacme
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন গ্রাহকরা? জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন যে, অতিরিক্ত আমদানি আসার পরে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরে বর্তমান সরবরাহের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজারের গতিবিধি এবং মুদ্রার ওঠানামার প্রতি এলপিজি-র দাম সংবেদনশীল থাকবে। তবে গৃহস্থালির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক এই মূল্য সংশোধনের অর্থ হল – রান্নাবান্নার জন্য প্রচুর খরচ। শুধু তা-ই নয়, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির জেরে রেস্তোরাঁ এবং খাবার সংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনার খরচও কিন্তু বৃদ্ধি পাবে।
