সংস্থার প্রেসিডেন্ট সুদেশ পোদ্দার জানান, তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে অন্তত কিছুটা হলেও গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখা হয়। তাঁর কথায়, “আমরা ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি যাতে কিছু কিছু সাপ্লাই বজায় থাকে। গতকাল পর্যন্ত সাপ্লাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু আজ অনেকটাই কমে গিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, তেল কোম্পানিগুলির তরফে জানানো হয়েছে যে আগামীকাল থেকে হয়তো আর নতুন করে সাপ্লাই আসবে না। ফলে বর্তমানে যার কাছে যতটা স্টক রয়েছে, তা দিয়েই কাজ চালাতে হবে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা মারাত্মক সমস্যায় পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
advertisement
‘কাল থেকে আর সাপ্লাই আসবে না’! আতঙ্কিত স্বর হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রধানের…এলপিজি ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে
সুদেশ পোদ্দারের মতে, গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে পর্যটন শিল্পের উপরও। কারণ হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে গোটা পর্যটন ক্ষেত্রই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা যুদ্ধের প্রভাব ভারতের জ্বালানি সরবরাহেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ এই সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটছে, যার প্রভাব ভারতের বাজারেও দেখা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন শহরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান এবং অন্যান্য খাদ্য-ব্যবসার উপর, যেগুলি প্রতিদিন রান্নার জন্য বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর নির্ভর করে।
সরকারি সূত্রের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষের বাড়িতে গ্যাসের সরবরাহে কোনও সমস্যা না হয়। তবে এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য সিলিন্ডারের সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ হল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণে বিঘ্নের আশঙ্কা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, সেখানে উত্তেজনার কারণে তেল ও গ্যাসের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফলে ভারতের মতো দেশ, যেগুলি বড় অংশে জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল, তারা এই বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রান্নার গ্যাসের সরবরাহের পাশাপাশি দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
