শনিবার ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন থেকে ফ্লোরিডাগামী এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, “চিন এতে যোগ দিতে পারে, এতে খুব ভাল তেলচুক্তি হবে। আমরা চিনকে স্বাগত জানাই। আমরা ইতিমধ্যেই চুক্তি করেছি। ভারত এতে আসছে এবং তারা ইরান থেকে তেল না কিনে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে।”
advertisement
প্রচুর সোনা! ভারত থেকে মাত্র ৯ ঘণ্টা দূরের এই দেশ! এবার লক্ষ্য বিশ্বসেরা শীর্ষ দশের তালিকা
তিনি আরও বলেন, “সুতরাং আমরা ইতিমধ্যেই সেই চুক্তি করেছি, অন্তত চুক্তির ধারণাগত কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন এক দিন আগেই আমেরিকা নয়াদিল্লিকে জানিয়েছে যে, তারা শীঘ্রই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা পুনরায় শুরু করতে পারে, যাতে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমে আসার প্রভাব সামাল দেওয়া যায়।
এর আগে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার জন্য ভারতসহ কয়েকটি দেশের উপর শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে রাশিয়ার তেল রপ্তানি থেকে আয় কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যে পরে অবস্থান বদল করে মার্কিন প্রশাসন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-র উপর চাপ বাড়াতে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই তালিকায় ভারতও ছিল।
এর পর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই আলোচনা প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন অর্থ দফতর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এর মধ্যেই, ভেনেজুয়েলার জন্য নিযুক্ত আমেরিকার নতুন শীর্ষ কূটনীতিক লরা এফ ডোগু শনিবার কারাকাসে পৌঁছেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর সেখানে ফের দূতাবাস খোলার উদ্যোগ নিচ্ছে। ডোগু বর্তমানে কলম্বিয়ায় অবস্থিত ইউএস ভেনেজুয়েলা অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
কারাকাসে তাঁর উপস্থিতি মার্কিন-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় তাদের কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নিয়ে দূতাবাসের কাজকর্ম স্থগিত করেছিল।
এ মাসের শুরুতে, বহু বছর পর প্রথমবার ভেনেজুয়েলায় সফর করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি প্রতিনিধি দল। চলতি সপ্তাহে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ধাপে ধাপে দূতাবাস পরিষেবা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে অস্থায়ী দূতাবাস খোলার বিষয়টিও থাকতে পারে।
