২০২০ সালের পর চিনা সংস্থাগুলির উপর আরোপিত একাধিক বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টি নতুন করে ভাবছে মোদি সরকার। এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিকের দাবি, জাতীয়তাবাদের বদলে এখন অর্থনৈতিক প্রভাব, কর্মসংস্থান ও দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে সরকার। সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোলকে ওই সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে চিনা সংস্থাগুলির বিনিয়োগ এবং সরকারি ক্রয়ে অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ ছিল। তবে এখন যে বিনিয়োগে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশীয় সক্ষমতা বাড়বে, তা স্বাগত জানানো উচিত—এমন মত গড়ে উঠছে প্রশাসনের ভিতরে।
advertisement
হোটেল রুমে লুকানো ক্যামেরা আছে কি না বুঝবেন কী ভাবে? জেনে নিন ৫টি সহজ উপায়
তবে টেলিকম, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত পরিকাঠামোর মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে চিনা সংস্থার প্রবেশে এখনও কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। সূত্রের খবর, অ-কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে চিনা সংস্থার সরকারি ক্রয়ে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যাতে পুঁজি প্রবাহ বাড়ে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদার হয়, পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে।
বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) নীতিতেও ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২০ সালে জারি হওয়া প্রেস নোট ৩ অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে এমন দেশগুলির থেকে আসা বিনিয়োগে আগাম সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এখন সেই নিয়ম কিছু ক্ষেত্রে শিথিল হতে পারে বলে ইঙ্গিত। এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, সব রকম সুরক্ষা তুলে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে না। তবে যেসব ক্ষেত্রে ভারত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির প্রয়োজন অনুভব করছে—বিশেষ করে নবীকরণযোগ্য শক্তি ও উৎপাদন শিল্পে—সেখানে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার দেওয়া হতে পারে।
সরকারি চুক্তিতেও চিনা সংস্থার অংশগ্রহণে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা শিথিল করার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের দাবি। এতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরির সমস্যাও কিছুটা কমবে। এক শীর্ষ আধিকারিকের মতে, যদি এমন পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা দেশেই তৈরি করা সম্ভব, তবে কর্মসংস্থান হারাতে হয়। তাছাড়া তৃতীয় দেশ—যেমন জাপান বা মরিশাস—হয়ে পুঁজি প্রবেশ ইতিমধ্যেই সম্ভব হচ্ছে, ফলে কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
তবে কৌশল ও নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখার কথাও স্পষ্ট করেছে সরকার। ডেটা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও কৌশলগত খাতে কঠোর নজরদারি থাকবে। শিল্পমহলের একাংশও মনে করছে, ২০২০-পরবর্তী চিন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধে কোনও ছাড় দিলে তা যেন বাছাই করে এবং কড়া নজরদারির মধ্যেই হয়।
এই প্রসঙ্গে CTA Apparels-এর চেয়ারম্যান মুকেশ কানসল বলেন, বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে ভারতের চিন-নির্ভরতা মূলত কাঁচামাল ও ইনপুটের ক্ষেত্রে, প্রস্তুত পণ্যে নয়। মানবসৃষ্ট তন্তু, বিশেষ ধরনের সুতো, রং, রাসায়নিক, ট্রিমস ও টেক্সটাইল যন্ত্রাংশে চিনের ওপর নির্ভরতা বেশি, কারণ উৎপাদনের স্কেল, গতি ও খরচে তারা এগিয়ে। চিনা বিনিয়োগে কড়াকড়ির ফলে বিশেষ করে MMF-ভিত্তিক পোশাক প্রস্তুতকারকদের খরচ বেড়েছে এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলছে। শিল্পমহলের দাবি, পুরোপুরি ছাড় নয়—নিয়ন্ত্রিত ও বাস্তববাদী নীতিই এই মুহূর্তে প্রয়োজন।
