২০২৬-২৭ সালের বাজেট ঘোষণায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়কর আইন নিয়ে পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছিল। এরপরে ২০২৫ সালে নতুন আয়কর আইন ঘোষণা করা হয়। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন আয়কর আইন কার্যকর হচ্ছে। এমনভাবে আয়কর আইন বানানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কর জমা দিতে কোনও অসুবিধা না হয়।
advertisement
আরও পড়ুন– STT বৃদ্ধি FII পুঁজিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না,মত অর্থমন্ত্রীর
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ স্বীকার করে নিয়েছে যে এবারের বাজেট আগেরগুলোর থেকে ‘একটু আলাদা’-ই ছিল ৷ কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এর মূল বিষয়বস্তু ছিল স্থিতিশীলতা, যখন বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব ‘অনিশ্চয়তা’ চলছে। ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় মৌলিক বিষয়গুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। এখ বিশ্বজুড়ে চলছে অনিশ্চয়তা ৷ এখন এমন মাত্রা ছাড়িয়েছে, যা আমরা আগে কখনও দেখিনি ৷ তিনি আরও বলেছেন, যে সরকারকে শুধু এই বছর নয়, পরবর্তী অর্থবর্ষের বিকশিত ভারত-এর জন্য দীর্ঘ পথও বিবেচনা করতে হয়েছে ৷ এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্যারিফ যুদ্ধ’ থেকে শুরু করে গ্লোবাল মার্কেট জুড়ে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য অস্থির পরিস্থিতি ৷
সীতারমণ বলেন এবছরের বাজেট আগামী দিনের লক্ষ্যের কথা ভেবে পড়া উচিৎ ৷ তিনি ব্যাখ্যা করলেন কেন বাজেট বক্তৃতার ‘Part B’-তে অস্বাভাবিক গুরুত্ব রয়েছে ৷ তিনি বললেন এটা শুধু কর প্রস্তাবের বাইরে গিয়ে দেখিয়েছে প্রশাসন আর আর্থিক নীতি কীভাবে বদলাতে পারে। পাশাপাশি এই বাজেট দেখিয়েছে কীভাবে সমস্ত পলিসিগুলি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে মিলবে। এই বাজেটের কোনও ‘ভিশন’ নেই এমন অভিযোগকেও উড়িয়ে দিয়েছেন সীতারমণ ৷ বললেন এই সমালোচনা করে লাভ নেই ৷ বরং এই বাজেট কোন বিষয়গুলি লক্ষ্য রেখে তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিৎ ৷
বিকশিত ভারত তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের পক্ষ থেকে। ২০৪৭ সালের মধ্যে সেখানে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আর সেই কাজের জন্য ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বিরাট পরিবর্তন আনতে চাইছে সরকার। সেই মতো বাজেটে একটি বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন যে, ব্যাঙ্কিং সেক্টরের জন্য একটি হাই লেভেল কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি নির্দিষ্ট প্ল্যানিং করবে বলেই জানা গিয়েছে।
এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ফিনান্স কর্পোরেশন ও গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন কর্পোরেশনের পুনর্গঠন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশি মুদ্রা পরিচালনার নিয়মেও বদল আনতে চলেছে সরকার। সেই মতো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।
এ দিনের বাজেট থেকে সিল্ক, উল ও জুটের জন্য ন্যাশনাল ফাইবার স্কিম আনার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ও হ্যান্ডিক্রাফ্ট প্রোগ্রামে পোশাক শিল্পীদের সাহায্য করা হবে বলে জানান হয়েছে। যার ফলে এগিয়ে যাবে বস্ত্রশিল্প বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা করে প্রত্যাশা ছিলই। সেই প্রত্যাশা ইতিমধ্যেই পূরণ হয়েছে। ডানকুনি থেকে সুরাটের মধ্যে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাড়বে ব্যবসা।
রবিবার বাজেট ঘোষণার সময়েই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা জানান, অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস্, গেমিং এবং কমিক্স (এভিজিসি) ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে। সে জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উদ্যোগে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির তত্ত্বাবধানে ১৫,০০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫০০ কলেজে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপন হবে। এই ল্যাবগুলি শিক্ষার্থীদের কন্টেন্ট তৈরির প্রথাগত প্রশিক্ষণ দেবে। ডিজিটাল মাধ্যমে গল্প বলতে সাহায্য করবে। যারা গেমিং অ্যাপের নকশা করতে আগ্রহী কিংবা ভিজ্যুয়াল এফেক্ট নিয়ে কাজ করতে চায়, তাদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মোদি সরকার মনে করছে, এতে তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন পথ খুলবে। কর্মসংস্থানের উপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়ে জোর দেওয়া যাবে।
