নতুন কাঠামো অনুসারে, সিগারেটের উপর কর ধার্য করা হয় সেগুলোর দৈর্ঘ্য (মিলিমিটারে) এবং সেগুলো ফিল্টারযুক্ত না কি ফিল্টারবিহীন তার উপর ভিত্তি করে। সহজ কথায়, লম্বা সিগারেটের উপর বেশি কর বসে, যা শেষ পর্যন্ত খুচরো মূল্যের উপর প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন: ১০ বছর পর ১ কোটি টাকার মূল্য কত হবে? হিসেব না জানলে কেবলই হোঁচট খেতে হবে
advertisement
দৈর্ঘ্য অনুসারে সিগারেটের উপর কীভাবে কর ধার্য করা হয়
৬৫ মিমি পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সিগারেটের জন্য বিভাগভেদে প্রতি ১,০০০ শলাকার উপর শুল্ক প্রায় ২,৭০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়। এটি সর্বনিম্ন করের স্তর এবং সাধারণত ছোট আকারের সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যে সব সিগারেটের দৈর্ঘ্য ৬৫ মিমি-এর বেশি, কিন্তু ৭০ মিমি-এর বেশি নয়, সেগুলো উচ্চতর করের স্তরে পড়ে এবং ছোট আকারের সিগারেটের তুলনায় শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
৭০ মিমি-এর বেশি এবং ৭৫ মিমি পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সিগারেটের জন্য করের বোঝা প্রতি ১,০০০-এ প্রায় ৭,০০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা এগুলোকে উৎপাদন ও বিক্রয়ের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যয়বহুল করে তুলবে।
সর্বোচ্চ কর ধার্য হয় অন্যান্য বিভাগের উপর, যেখানে প্রতি ১,০০০ পিসের জন্য ১১,০০০ টাকা শুল্ক প্রযোজ্য। এই বিভাগে সাধারণত লম্বা বা ভিন্ন ডিজাইনের সিগারেট পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে যা প্রচলিত মানদণ্ডের স্তরে ঠিকমতো খাপ খায় না। সহজ কথায়, সিগারেট যত লম্বা হবে, করের বোঝাও তত বেশি হবে।
এর ফলে খুচরো মূল্যের উপর কী প্রভাব পড়বে
যদিও কোম্পানিগুলো এখনও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়নি, তবে শুল্ক কাঠামোটি দামের উপর চাপের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
প্রাথমিক স্তরে:
প্রতি ১,০০০ সিগারেটে ২,৭০০ টাকা কর মানে প্রতি পিসে প্রায় ২.৭ টাকা।
প্রতি ১,০০০ সিগারেটে ৭,০০০ টাকা শুল্ক মানে প্রতি পিসে প্রায় ৭ টাকা।
প্রতি ১,০০০ সিগারেটে ১১,০০০ টাকা কর মানে প্রতি পিসে প্রায় ১১ টাকা কর।
এর মানে এই নয় যে খুচরো মূল্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই পরিমাণে বাড়বে। সিগারেটের নির্মাতারা বিক্রি ধরে রাখার জন্য, বিশেষ করে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে, মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ নিজেরাই বহন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিকল্পভাবে, কোম্পানিগুলো ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বর্ধিত খরচ ধীরে ধীরে ভোক্তাদের উপর চাপিয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: সোনা পৌঁছাতে পারে ৩ লক্ষ টাকায় ? জানুন কখন এবং কীভাবে এই দাম বৃদ্ধির রেকর্ড গড়বে হলুদ ধাতু
সিগারেটের দাম কি বাড়বে
এটা নির্ভর করে কে কী ধরনের সিগারেট খায় তার উপর। ছোট সিগারেটের দাম তুলনামূলকভাবে কম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্য দিকে, লম্বা এবং প্রিমিয়াম সিগারেটের উপর করের বোঝা অনেক বেশি পড়বে, ফলে এই বিভাগগুলিতে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি। ভোক্তাদের জন্য মূল হিসেবটি সহজ- কত টাকা দিতে হবে তা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সিগারেটের দৈর্ঘ্য এখন আগের চেয়ে অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে।
