Value Of 1 Crore Rupees After 10 Years: ১০ বছর পর ১ কোটি টাকার মূল্য কত হবে? হিসেব না জানলে কেবলই হোঁচট খেতে হবে
- Written by:Trending Desk
- Published by:Dolon Chattopadhyay
Last Updated:
Value Of 1 Crore Rupees After 10 Years: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার অর্থ হল ভবিষ্যতে একই ১ কোটি টাকা দিয়ে আজকের তুলনায় অনেক কম জিনিস কেনা যাবে।
বেশিরভাগ ভারতীয়দের কাছে ১ কোটি টাকা এখনও জীবন বদলে দেওয়ার মতো একটি বিশাল অঙ্ক। 'কোটি' শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই কারণেই অনেকে মনে করেন যে অবসরের আগে ১ কোটি টাকা জমা করতে পারলেই আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হয়ে যাবে। কিন্তু এই ধারণাটি প্রায়শই একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে- টাকার মূল্য স্থির থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার অর্থ হল ভবিষ্যতে একই ১ কোটি টাকা দিয়ে আজকের তুলনায় অনেক কম জিনিস কেনা যাবে।
advertisement
মুদ্রাস্ফীতি ব্যাখ্যা করার একটি সহজ উদাহরণএক দশক আগে নয়ডার একটি ভাল সোসাইটিতে একটি প্রশস্ত ৪-বিএইচকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ১ কোটি টাকাই যথেষ্ট ছিল। আজ সেই একই অ্যাপার্টমেন্টের দাম ২ কোটি টাকারও বেশি হবে। ফ্ল্যাটের আকার পরিবর্তন হয়নি, অবস্থানও পরিবর্তন হয়নি। যা পরিবর্তিত হয়েছে তা হল টাকার মূল্য। এই পার্থক্যটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে বাস্তব জীবনে মুদ্রাস্ফীতি কীভাবে কাজ করে।
advertisement
টাকার জন্য মুদ্রাস্ফীতির প্রকৃত অর্থ কীমুদ্রাস্ফীতি বলতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য ও পরিষেবার দামের ধীরে ধীরে বৃদ্ধিকে বোঝায়। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের কাছে থাকা প্রতিটি টাকার ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। ভারতে, মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করা হয় কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) ব্যবহার করে, যা খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং পরিবহনের মতো দৈনন্দিন জিনিসপত্রের খরচ ট্র্যাক করে।
advertisement
advertisement
তাহলে ১০ বছরে ১ কোটি টাকার কী হবেধরা যাক, মুদ্রাস্ফীতির গড় হার বার্ষিক ৫ শতাংশ, যা ভারতের জন্য একটি বাস্তবসম্মত অনুমান। এই হারে আজকের ১ কোটি টাকার ক্রয়ক্ষমতা ১০ বছর পর প্রায় ৬১.৩৭ লাখ টাকার সমান হবে। অন্যভাবে বলতে গেলে, যে কোনও জিনিসের দাম আজ ১ কোটি টাকা হলে, এক দশক পরে তার দাম হবে প্রায় ১.৬২ কোটি টাকা। এই কারণেই যে টাকা আজ পর্যাপ্ত মনে হচ্ছে, তা আগামীকাল অপর্যাপ্ত মনে হতে পারে।
advertisement
অবসরকালীন পরিকল্পনার জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণএকটি সাধারণ পরিস্থিতি বিবেচনা করা যাক। কারও বয়স ৫০ বছর এবং ৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে ১ কোটি টাকার একটি অবসরকালীন তহবিল যথেষ্ট, কারণ বর্তমানে এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি বাড়ি কেনা, সন্তানের শিক্ষা বা বিয়ে, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং একটি আরামদায়ক জীবনযাপন সম্ভব বলে মনে হচ্ছে।তবে, অবসর নেওয়ার সময় সেই একই ১ কোটি টাকা আর ততটা কাজে আসবে না। দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাবে, স্বাস্থ্যসেবা অনেক বেশি ব্যয়বহুল হবে এবং জীবনের বড় লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য আজকের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না করলে অবসরকালীন পরিকল্পনা বিপজ্জনকভাবে বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
advertisement
দৈনন্দিন জীবনে মুদ্রাস্ফীতির নীরব প্রভাবমুদ্রাস্ফীতি শুধু বাড়ি কেনার মতো বড় কেনাকাটার উপরই প্রভাব ফেলে না। এটি নীরবে দৈনন্দিন খরচকেও নতুন রূপ দেয়। স্বাস্থ্যসেবার বিল যা আজ সামলানো সম্ভব বলে মনে হচ্ছে, তা এক দশকের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে। উচ্চশিক্ষার খরচ, বিশেষ করে বিদেশে, সাধারণ মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ে। গৃহস্থালীর খরচ, গৃহকর্মী, বিমার প্রিমিয়াম এবং ভ্রমণের খরচ সবই বছর বছর বাড়তে থাকে।বিপদটা এখানেই যে মুদ্রাস্ফীতি নীরবে কাজ করে। এক বছরে এর প্রভাব অনুভব করা যাবে না, কিন্তু ১০ বা ২০ বছরে এটি জীবনযাত্রার মানকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
advertisement
কেন শুধু সঞ্চয় করাই যথেষ্ট নয়অনেকেই এখনও সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ঐতিহ্যবাহী ফিক্সড ডিপোজিটের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেন। যদিও এই বিকল্পগুলো নিরাপত্তা প্রদান করে, তবে এদের থেকে প্রাপ্ত আয় প্রায়শই মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। যখন আয় মুদ্রাস্ফীতিকে হারাতে ব্যর্থ হয়, তখন অর্থ পরিমাণের দিক থেকে বাড়ছে বলে মনে হলেও, প্রকৃত মূল্যে তা আসলে কমে যায়।
advertisement
যে সব বিনিয়োগ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতিকে হারাতে সাহায্য করেভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ বিকল্প ঐতিহাসিকভাবে মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি রিটার্ন দিয়েছে। ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড, যার মধ্যে ইনডেক্স ফান্ড এবং ফ্লেক্সি-ক্যাপ ফান্ড অন্তর্ভুক্ত, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে উপকৃত হয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি-প্রতিরোধী রিটার্ন তৈরি করার সম্ভাবনা রাখে।ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) ইক্যুইটির সুবিধা এবং কর সাশ্রয়কে একত্রিত করে, যা এটিকে অবসর গ্রহণের জন্য একটি শক্তিশালী বিকল্প করে তোলে। হাইব্রিড ফান্ডগুলো প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, অন্য দিকে, সোনা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি বা অনিশ্চয়তার সময়ে একটি সুরক্ষা হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মূল বিষয় হল ঝুঁকিকে পুরোপুরি এড়িয়ে না চলা, বরং পরিমাপযোগ্য, দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নেওয়া যা সম্পদকে দামের চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়তে দেয়।
advertisement
মূল শিক্ষাবিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের জন্য পরিকল্পনা করে, ক্রয়ক্ষমতার জন্য পরিকল্পনা করা হয় না বেশিরভাগ সময়েই। আজ ১ কোটি টাকা শুনতে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, কিন্তু আসল কথা হল যখন সত্যিই টাকার প্রয়োজন হবে, তখন সেই টাকা দিয়ে কতটা কী ক্রয় করা যাবে!মুদ্রাস্ফীতি অনিবার্য, কিন্তু এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিনিয়োগকারীরা যত তাড়াতাড়ি তাঁদের লক্ষ্যমাত্রায় মুদ্রাস্ফীতিকে অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং সেই অনুযায়ী তাঁদের বিনিয়োগ সাজাবেন, আগামী বছরগুলোতে সম্পদ ও জীবনধারা উভয়ই রক্ষা করার সম্ভাবনা তাঁদের জন্য তত মসৃণ হবে।









