গাছগাছালিতে ঘেরা এই প্রাকৃতিক অঞ্চলে বেল গাছের সংখ্যা নেহাত কম নয়। বছরের পর বছর ধরে এই ফল মূলত ঘরোয়া ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন তার বাণিজ্যিক গুরুত্ব বেড়েছে অনেকটাই। বেলের শাঁস দিয়ে তৈরি হয় শরবত, যা গ্রীষ্মকালে চাহিদার শীর্ষে থাকে। পাশাপাশি এই বেলের শাঁস ও নির্যাস ব্যবহার হচ্ছে ঔষধ তৈরির কাজে।
advertisement
জানা যাচ্ছে, জঙ্গলমহল থেকে সংগৃহীত বেলের শাঁস নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে কলকাতায় বিভিন্ন ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থার কাছে। সকাল সকাল খাতড়া বাজার-এ গেলে চোখে পড়ে বেলের বিপুল সম্ভার। স্থানীয় কৃষক ও বননির্ভর মানুষজন বেল সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করছেন। এতে যেমন তাঁদের আয় বাড়ছে, তেমনই বেলের কদরও বাড়ছে শহর থেকে শহরতলিতে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বেলের বিশেষত্ব এখানেই শেষ নয়। এই ফলের কোনও অংশই ফেলে দেওয়ার নয়। বেলের খোসা ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে বেলের মালা, যা মূলত ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। যদিও এই মালা তৈরির কাজ বেশ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ, তবুও অনেক পরিবার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, যদি সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেলভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলা যায়, তবে জঙ্গলমহলের বহু মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান সম্ভব। প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার যে কীভাবে জীবিকার নতুন দিশা দেখাতে পারে, বেল তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠছে বাঁকুড়া।





