কীভাবে গাছ থেকে বেশি ফলন পাওয়া যায়, কিংবা অন্য অঞ্চলের ফল নিজের এলাকায় ফলান যায়—এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সেই প্রচেষ্টার ফলেই তাঁর বাগানে এখন ৮৫ ধরনের আমগাছের দেখা মিলছে।
আরও পড়ুন: বাজার পতনের মুখে কি আপনার SIP বন্ধ করছেন? খুব বড় ভুল করছেন না তো ?
advertisement
মাদল বাবুর এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই এলাকায় যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। তাঁর বাগানে রয়েছে দেশি ও বিদেশি নানা প্রজাতির আম। এর মধ্যে আম্রপল্লী, সুবর্ণরেখা, মল্লিকা, রানীভোগের মত পরিচিত প্রজাতি রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজাতির আমও তিনি চাষ করেছেন। শুধু তাই নয়, থাইল্যান্ড ও আফ্রিকার সহ নানান দেশের নানান প্রজাতির আমগাছও রয়েছে তাঁর বাগানে। এক জায়গায় এত ধরনের আমগাছ খুব কমই দেখা যায়। তাই তাঁর বাগান এখন অনেকের কাছেই আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কৃষক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই তাঁর বাগান দেখতে আসছেন।
দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে মাদল কুমার পাল কৃষি সম্মান পুরস্কার পান।
আরও পড়ুন: আপনার EPF অ্যাকাউন্টে কখন সুদ জমা হবে, কীভাবে তা গণনা করা হবে? সম্পূর্ণ হিসেবটি বুঝে নিন
তাঁর মতে, যে কেউ চাইলে বাড়িতেই বিভিন্ন প্রজাতির আমের চাষ করতে পারেন। এতে ভাল লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার টাকা খরচ করলেই ৮৫ ধরনের আমগাছ লাগান সম্ভব। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই গাছ ফলন দিতে শুরু করে। এরপর প্রতি বছর প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাভ করা যায়। আম গাছ দীর্ঘদিন ধরে ফলন দেয়।
তবে ভাল ফলনের জন্য সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। বছরে অন্তত দু’বার গাছে সার দিতে হয়। তিনি মূলত ভার্মি কম্পোস্ট, হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি, বায়ো পটাশ ও ডিএপি ব্যবহার করেন। মুকুল আসার সময় ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। আবার ফল পাকার সময় ফল ছিদ্রকারী পোকা বা ফলের মাছি আক্রমণ করতে পারে। তাই গাছে ফেরোমেন ট্র্যাপ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ২০ ফুট অন্তর একটি করে ট্র্যাপ বসাতে হয়।
মাদল বাবুর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, অল্প খরচে বাড়িতেই বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সফল হওয়া সম্ভব। যারা কৃষি কাজ করে মোটা অংকের লাভ পেতে চান তাদের জন্য এই উদ্যোগ নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
মদন মাইতি





