ব্রহ্ম মুহূর্ত: শুধু একটি সময় নয়, শক্তির দ্বার। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, ব্রহ্ম মুহূর্ত হল সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগের সময়, যখন মহাবিশ্বে সত্ত্ব গুণ (শুভ গুণ) সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময়েই ইতিবাচক শক্তি তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। প্রাচীনকালে ঋষি ও সাধুরা এই সময়ে ধ্যান করার জন্য ঘুম থেকে উঠতেন। আজও, আপনি যদি কোনও পাহাড়ি এলাকা বা শান্ত জায়গায় যান, তাহলে লক্ষ্য করবেন যে এই সময়ে বাতাস অন্যরকম লাগে, হালকা, শীতল এবং অত্যন্ত শান্ত।
advertisement
সময় নিয়ন্ত্রণ: সময়ের গতি কমে যায়। বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে সময়ের গতি কিছুটা কমে যায়। যার অর্থ এই নয় যে, ঘড়ি থেমে যায়, বরং আপনার চেতনা সময়কে ভিন্নভাবে উপলব্ধি করে। যারা এই সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তারা প্রায়শই বলেন দিনটি দীর্ঘতর এবং আরও ফলপ্রসূ মনে হয়। এই কারণেই অনেক সফল ব্যক্তি ভোর চার’টের আগে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করেন।
ছবিঃ এআই।
তিন গুণের খেলা: সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ। ভোর ৩:৪০ মিনিট কেন বিশেষ? জ্যোতিষশাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিকতায় তিনটি গুণের বর্ণনা করা হয়েছে: সত্ত্ব (শান্তি), রজঃ (কর্ম) এবং তমঃ (অলসতা)। রাতে তমঃ-এর প্রাধান্য থাকে, দিনে রজঃ-এর প্রভাব থাকে, কিন্তু ব্রহ্ম মুহূর্তে কেবল সত্ত্ব-এরই প্রাধান্য থাকে। যার অর্থ, আপনি যদি এই সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তবে আপনার মন আপনা-আপনি শান্ত ও স্বচ্ছ হয়ে যায়। অনেকে বলেন, এই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত সঠিক হয়।
আরও পড়ুনঃ গরমে ছাদে, বারান্দায় ফলবে রসাল স্ট্রবেরি, বেদানা, পেয়ারা, লেবু! মোক্ষম টোটকা দিলেন বাগান বিশেষজ্ঞ
চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়ঃ কপালের মাঝখানে অবস্থিত আজ্ঞা চক্রকে তৃতীয় নয়নও বলা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, ব্রহ্ম মুহূর্তে এটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।
সহজ কথায়: এই সময় সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়, মনোযোগ বাড়ে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। অনেক লেখক, যোগী এবং সৃজনশীল মানুষ এই সময়ে তাদের কাজ শুরু করেন কারণ এই সময়ে তাদের মন সবচেয়ে স্বচ্ছ থাকে।
নাড়ি শুদ্ধি, শরীর ও শক্তির ভারসাম্য রক্ষাঃ আমাদের শরীরে হাজার হাজার শক্তি নালী (নাড়ি) রয়েছে। যখন এগুলোর ভারসাম্য বজায় থাকে, তখন শরীর ও মন উভয়ই সুস্থ থাকে।
ছবিঃ এআই।
কীভাবে শুরু করবেন?
আপনি যদি ঠিক ৩:৪০-এ ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করেন, আপনার শরীর হয়তো বাধা দেবে। তাই, ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হন প্রথমে সকাল ৬’টায়, এরপর সকাল ৫’টায়, এরপর সকাল ৪:৩০ টেয় এবং অবশেষে সকাল ৩:৪০ টায়। এইভাবে, আপনার শরীর এবং মন উভয়ই মানিয়ে নেবে।
ইচ্ছাশক্তির শিখর: আপনি যা ভাবেন, তাই যেন হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র বিশ্বাস করে যে এই সময়ে করা প্রতিজ্ঞা বা সংকল্প সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই করা পরিকল্পনাগুলো বেশিদিন টেকে। এই কারণেই ঋষি ও সাধুরা এই সময়ে ধ্যান করেন এবং সংকল্প গ্রহণ করেন।
ঐশ্বরিক শক্তির প্রভাব: ইতিবাচকতার শিখর। আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুসারে, ব্রহ্ম মুহূর্তে ঐশ্বরিক শক্তি সক্রিয় থাকে। আপনি এটা বলতে পারেন যে এই সময়টি ইতিবাচক স্পন্দনে পরিপূর্ণ থাকে। অনেকেই জানান যে এই সময়ে ধ্যান করলে মন দ্রুত শান্ত হয় এবং ভেতরে এক ভিন্ন ধরনের স্থিতিশীলতা অনুভূত হয়।
এই অনুশীলন কি সবাই করতে পারে?
সত্যি বলতে, এটা সহজ নয়। ঘুম একটি বড় প্রলোভন, এবং বেশিরভাগ মানুষ কয়েকদিন পরেই হাল ছেড়ে দেয়। তবে, যারা একটানা ২১ দিন এটি পালন করেন, তারা নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন:
– মনোযোগ বৃদ্ধি
– মন শান্ত হওয়া
– এবং সারাদিন আরও বেশি শক্তি
ব্রহ্ম মুহূর্তে জেগে থাকা শুধু একটি ধর্মীয় বা জ্যোতিষশাস্ত্রীয় অনুশীলন নয়, এটি একটি জীবনযাত্রার পরিবর্তন। যদি আপনি ধীরে ধীরে এটি গ্রহণ করেন, তবে এটি আপনার চিন্তাভাবনা, কাজ এবং এমনকি আপনার ভাগ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
