TRENDING:

Brahma Muhurta: ভোর ৩:৪০ মিনিট...! ঠিক এই মুহূর্ত ৬ রহস্যে মোড়া, ব্রহ্ম মুহূর্তে জেগে উঠলে জীবনে কী পরিবর্তন ঘটে? জানুন

Last Updated:

Brahma Muhurta: জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, ব্রহ্ম মুহূর্তে ভোর ৩:৪০ মিনিটে ঘুম থেকে ওঠা একটি জীবন পরিবর্তনকারী অভ্যাস। এই সময়টি শান্তি, একাগ্রতা এবং ইতিবাচক শক্তি প্রদান করে, যা মানসিক, শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক বিকাশে সহায়তা করে।

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
কলকাতাঃ রাত গভীর হয়, সারা পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু এই নিস্তব্ধতার মধ্যে এমন একটি সময় আসে, যাকে আমাদের ঋষিগণ সবচেয়ে বিশেষ বলে বর্ণনা করেছেন, ব্রহ্ম মুহূর্ত। বলা হয়, এই সময়ে শক্তি সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং মন সবচেয়ে শান্ত থাকে। জ্যোতিষশাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিকতার জগৎ বিশ্বাস করে, যারা মধ্যরাতে জেগে ওঠেন, তাদের জীবন ধীরে ধীরে একটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। এটি কেবল পুজো বা ধ্যানের বিষয় নয়, বরং এটি চিন্তাভাবনা, স্বাস্থ্য এবং এমনকি ভাগ্যকেও প্রভাবিত করে। তাহলে, ভোর ৩:৪০ মিনিটের এই সময়টি এত বিশেষ কেন, এবং তার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা সেই ছ’টি রহস্য কী, যা আপনাকে সাধারণ থেকে বিশেষে রূপান্তরিত করতে পারে।
ব্রহ্ম মুহূর্ত
ব্রহ্ম মুহূর্ত
advertisement

ব্রহ্ম মুহূর্ত: শুধু একটি সময় নয়, শক্তির দ্বার। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, ব্রহ্ম মুহূর্ত হল সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগের সময়, যখন মহাবিশ্বে সত্ত্ব গুণ (শুভ গুণ) সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময়েই ইতিবাচক শক্তি তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। প্রাচীনকালে ঋষি ও সাধুরা এই সময়ে ধ্যান করার জন্য ঘুম থেকে উঠতেন। আজও, আপনি যদি কোনও পাহাড়ি এলাকা বা শান্ত জায়গায় যান, তাহলে লক্ষ্য করবেন যে এই সময়ে বাতাস অন্যরকম লাগে, হালকা, শীতল এবং অত্যন্ত শান্ত।

advertisement

আরও পড়ুনঃ ডিপ ফ্রিজে বরফ জমে পাহাড়! ১-২ ঘণ্টার ডিফ্রস্ট দরকার নেই, ১০ মিনিটেই গলে জল! বিনা পয়সার এই কৌশলে সব গৃহিণীর মুশকিল আসান

সময় নিয়ন্ত্রণ: সময়ের গতি কমে যায়। বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে সময়ের গতি কিছুটা কমে যায়। যার অর্থ এই নয় যে, ঘড়ি থেমে যায়, বরং আপনার চেতনা সময়কে ভিন্নভাবে উপলব্ধি করে। যারা এই সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তারা প্রায়শই বলেন দিনটি দীর্ঘতর এবং আরও ফলপ্রসূ মনে হয়। এই কারণেই অনেক সফল ব্যক্তি ভোর চার’টের আগে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করেন।

advertisement

ছবিঃ এআই।

তিন গুণের খেলা: সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ। ভোর ৩:৪০ মিনিট কেন বিশেষ? জ্যোতিষশাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিকতায় তিনটি গুণের বর্ণনা করা হয়েছে: সত্ত্ব (শান্তি), রজঃ (কর্ম) এবং তমঃ (অলসতা)। রাতে তমঃ-এর প্রাধান্য থাকে, দিনে রজঃ-এর প্রভাব থাকে, কিন্তু ব্রহ্ম মুহূর্তে কেবল সত্ত্ব-এরই প্রাধান্য থাকে। যার অর্থ, আপনি যদি এই সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তবে আপনার মন আপনা-আপনি শান্ত ও স্বচ্ছ হয়ে যায়। অনেকে বলেন, এই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত সঠিক হয়।

advertisement

আরও পড়ুনঃ গরমে ছাদে, বারান্দায় ফলবে রসাল স্ট্রবেরি, বেদানা, পেয়ারা, লেবু! মোক্ষম টোটকা দিলেন বাগান বিশেষজ্ঞ

চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়ঃ কপালের মাঝখানে অবস্থিত আজ্ঞা চক্রকে তৃতীয় নয়নও বলা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, ব্রহ্ম মুহূর্তে এটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।

সহজ কথায়: এই সময় সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়, মনোযোগ বাড়ে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। অনেক লেখক, যোগী এবং সৃজনশীল মানুষ এই সময়ে তাদের কাজ শুরু করেন কারণ এই সময়ে তাদের মন সবচেয়ে স্বচ্ছ থাকে।

advertisement

নাড়ি শুদ্ধি, শরীর ও শক্তির ভারসাম্য রক্ষাঃ আমাদের শরীরে হাজার হাজার শক্তি নালী (নাড়ি) রয়েছে। যখন এগুলোর ভারসাম্য বজায় থাকে, তখন শরীর ও মন উভয়ই সুস্থ থাকে।

ছবিঃ এআই।

কীভাবে শুরু করবেন?

আপনি যদি ঠিক ৩:৪০-এ ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করেন, আপনার শরীর হয়তো বাধা দেবে। তাই, ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হন প্রথমে সকাল ৬’টায়, এরপর সকাল ৫’টায়, এরপর সকাল ৪:৩০ টেয় এবং অবশেষে সকাল ৩:৪০ টায়। এইভাবে, আপনার শরীর এবং মন উভয়ই মানিয়ে নেবে।

ইচ্ছাশক্তির শিখর: আপনি যা ভাবেন, তাই যেন হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র বিশ্বাস করে যে এই সময়ে করা প্রতিজ্ঞা বা সংকল্প সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই করা পরিকল্পনাগুলো বেশিদিন টেকে। এই কারণেই ঋষি ও সাধুরা এই সময়ে ধ্যান করেন এবং সংকল্প গ্রহণ করেন।

ঐশ্বরিক শক্তির প্রভাব: ইতিবাচকতার শিখর। আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুসারে, ব্রহ্ম মুহূর্তে ঐশ্বরিক শক্তি সক্রিয় থাকে। আপনি এটা বলতে পারেন যে এই সময়টি ইতিবাচক স্পন্দনে পরিপূর্ণ থাকে। অনেকেই জানান যে এই সময়ে ধ্যান করলে মন দ্রুত শান্ত হয় এবং ভেতরে এক ভিন্ন ধরনের স্থিতিশীলতা অনুভূত হয়।

এই অনুশীলন কি সবাই করতে পারে?

সত্যি বলতে, এটা সহজ নয়। ঘুম একটি বড় প্রলোভন, এবং বেশিরভাগ মানুষ কয়েকদিন পরেই হাল ছেড়ে দেয়। তবে, যারা একটানা ২১ দিন এটি পালন করেন, তারা নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন:

– মনোযোগ বৃদ্ধি

– মন শান্ত হওয়া

– এবং সারাদিন আরও বেশি শক্তি

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
মর্গে চলছে ময়নাতদন্ত, কান্নায় ভেঙে পড়লেন রাহুলের মামা-মামিমা
আরও দেখুন

ব্রহ্ম মুহূর্তে জেগে থাকা শুধু একটি ধর্মীয় বা জ্যোতিষশাস্ত্রীয় অনুশীলন নয়, এটি একটি জীবনযাত্রার পরিবর্তন। যদি আপনি ধীরে ধীরে এটি গ্রহণ করেন, তবে এটি আপনার চিন্তাভাবনা, কাজ এবং এমনকি আপনার ভাগ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলা খবর/ খবর/জ্যোতিষকাহন/
Brahma Muhurta: ভোর ৩:৪০ মিনিট...! ঠিক এই মুহূর্ত ৬ রহস্যে মোড়া, ব্রহ্ম মুহূর্তে জেগে উঠলে জীবনে কী পরিবর্তন ঘটে? জানুন
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল