ভাই-বোনের অটুটবন্ধনের একটি পবিত্র উত্সব ভাইফোঁটা। যমের কুনজর থেকে ভাইকে রক্ষা করার জন্যই এই আচার-অনুষ্ঠান। ভাইদের দীর্ঘায়ু কামনার উদ্দেশ্যে বোনেরা নানান রীতি ও নিয়ম পালন করেন ফোঁটা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এদিন ফোঁটা হিসেবে শুধু চন্দন নয়, থাকে কাজল, দইয়ের ফোঁটাও।
আরও পড়ুন: ছট পুজো কবে? কোন দেবতা উপাস্য এই ব্রতয়, রীতি ও নির্ঘণ্ট জানুন
advertisement
এছাড়াও আরও অনেক জিনিস রয়েছে। যা ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় রাখতেই হয় বোনেদের। একটি থালার মধ্যে সাজানো মঙ্গলঘট। একটি তামা অথবা মাটির ঘট নিতে হবে। তাতে সিঁদুরের পাঁচটি ফোঁটা দিতে হবে।জল ভরে আম পাতায় সিঁদুর দিয়ে তাতে দিতে হবে হরতকি। ঘট তৈরি হয়ে গেলে থালায় নিতে হবে ধান, দূর্বা, সাদা চন্দন, লাল চন্দন, চুয়া রাখতে হবে।এটি দশকর্মা ভাণ্ডারে পাওয়া যায়, রাখতে হবে দই। ঘি, মধু, প্রদীপ, ধূপকাঠি, হলুদ, কাঁচা টাকা।
আরও পড়ুন: ভাইয়ের কপালে কখন ফোঁটা দিলে শুভ? কত ক্ষণ থাকবে ফোঁটা দেওয়ার সময় জানুন
দীপাবলির অমাবস্যা তিথিতে পেতে রাখা কাজল। নারকেল নাড়ু এবং জল।
পুরোহিত তথা জ্যোতিষী বিনোদ তিওয়াড়ি জানান, “ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় বাঙালিরা যেমন ভাইফোঁটা পালন করেন। তেমনই অবাঙালিরা ভাইদুজ পালন করেন। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেওয়ার আগে সঠিক নিয়ম পালন করা প্রয়োজন। মঙ্গলঘট বসিয়ে থালা পরিপাটি সাজিয়ে তবেই ফোঁটা দিতে হয়। আর তিনটি উপাদান দিয়ে ফোঁটা দেওয়া আবশ্যক।”
শুভকাজে চন্দন, কাজল ও দই অত্যন্ত শুভ। কপালে চন্দনের ফোঁটা দেওয়া হলে মাথা থাকে ঠান্ডা ও শান্ত। এছাড়া চন্দনের ফোঁটার গুণে ধৈর্যশক্তি, মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। কাজল হল অত্যন্ত শুভ। শিশু বয়স থেকেই পায়ে, কপালের পাশে কাজলের তিলক বা ফোঁটা দেওয়ার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, কাজলের তিলক কালে অশুভ শক্তির প্রভাব পড়ে না, কুনজর থেকে রক্ষা করা যায়। শুভ কাজে দইয়ের ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিয়ে, অন্নপ্রাসন, জন্মদিন, গৃহপ্রবেশ, যে কোনও পুজো-অনুষ্ঠানে দই উপহার হিসেবেও দেওয়া হয়ে থাকে। ফোঁটা দেওয়ার সময় ভাইয়ের মাথায় বাম হাত করে তিনবার ধান-দূর্বা তুলে দেওয়া উচিত।
Annanya Dey






