‘কুম্ভমেলার ভাইরাল মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত মোনালিসা ভোঁসলেকে নিশ্চই মনে আছে ৷ ১১ মার্চ পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মোনালিসা বিয়ে করেন তাঁর প্রেমিক ফরমান খানকে । কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের কাছে পুভারের অরুণানুর শ্রী নৈনার দেব মন্দিরে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন মোনালিসা-ফারমান । তবে সেই বিয়ে নিয়ে বহু বিতর্ক তৈরি হয়৷ হিন্দু বাড়ির মেয়ে বিয়ে করবে মুসলমান ছেলেকে, মেনে নিতে পারেননি মোনালিসার বাবা৷ মেয়েকে বিয়ে না করার চাপ দিতে থাকেন তিনি৷ বাবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন মেয়ে, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ তিনি প্রাপ্তবয়স্ক, ফলে কাকে বিয়ে করবেন তা নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷ বুধবার কেরলের পুভরের অরুমানুরের নৈনার মন্দিরে সম্পূর্ণ হিন্দু রীতিনীতি মেনেই প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন মহাকুম্ভের ভাইরাল মোনালিসা। যদিও এই বিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কারণ বিয়ের ঠিক আগের মুহূর্তে অর্থাৎ বুধবার সকালের দিকে সটান থানায় হাজির হয়েছিলেন মোনালিসা এবং তাঁর সঙ্গী। তখনই এই বিয়ের ব্যাপারটি প্রকাশ্যে আসে। আসলে থাম্পানুর থানায় গিয়ে নিজের বাবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। মোনালিসা জানান যে, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁর বাবা। গত দেড় বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ফেসবুকেই তাঁদের পরিচয় হয়। ধর্মীয় বাধার কারণে মোনালিসার বাবা জয় সিং ভোঁসলে এই সম্পর্কের তীব্র বিরোধিতা করেন। মোনালিসার অভিযোগ, পরিবারের কাছ থেকে তাঁকে প্রচণ্ড চাপ এবং হুমকির সম্মুখীন হতে হয়, ফলে তাঁকে বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। যুগলের কথায়, কেরালা তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। সেখানে তাঁরা কোনও সামাজিক বা ধর্মীয় চাপ ছাড়াই শান্তিতে বসবাস করতে পারে। পুলিশ মোনালিসার নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখেছেন। এরপর মোনালিসার বাবাকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। আইন অনুসারে, মোনালিসার নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে। তাঁরা যাতে নিরাপদ থাকেন, তা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।



