এই পরিবারের ঠাকুরের মুখের আদলেই ‘দেবী’র পোস্টার এঁকেছিলেন সত্যজিৎ রায়

Bangla Editor | News18 Bangla | 06:57:48 PM IST Oct 10, 2018
  • পুরুষ-শাসিত তখনকার কলকাতা ৷ ব্রিটিশরাজ সে সময় জাঁকিয়ে বসেছে এ শহরের অলিতেগলিতে ৷ সেটা ১৭৯০ সাল ৷ সমাজে মেয়েদের অবস্থান তখন অন্দর মহলের গভীরে আরও গভীরে যেতে যেতে মাঝপথে যেন হারিয়েই গিয়েছে ৷ সেই যুগে মধ্য কলকাতার সুবৃহৎ হলদে-রঙা জানবাজারের প্রাসাদপম বাড়িটায় শুরু হল একেবারে ছক ভাঙা এক পুজো ৷ এই পুজো যেমন মায়ের আরাধনা, তেমনই মহিলাদের সম্মান প্রদর্শনও ৷ ১৮৩৬-এ স্বামী রাজচন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর নিজের কাঁধে পুজোর সমস্ত দায়িত্ব তুলে নিলেন তিনি ৷ লোকমাতা রাণি রাসমণি শুরু করলেন দেবী দুর্গার আরাধনা ৷  রানির দাপটের কথা সে সময় লোকমুখে ফিরত ৷ তাঁর কাছে জব্দ ছিল খোদ ইংরেজরাও ৷ নারী স্বাধীনতায় তলানিতে পৌঁছে যাওয়া মধ্যযুগীয় কলকাতা দেখেছিল বিধবা জমিদার গিন্নির তেজ কাকে বলে ৷ সুন্দরী হওয়ায় মাত্র ১১ বছর বয়সে জানবাজারের জমিদার প্রীতরাম দাস মাড়ের ছেলে রাজচন্দ্রের সঙ্গে বিয়ে হয় রাসমণি দেবীর ৷ সুখে-সমৃদ্ধিতে ভরা সংসার ৷ কিন্তু দুঃখ একটাই ৷ একটাও ছেলে হল না তাঁদের ৷ চার মেয়ে এল রাজচন্দ্র আর রাসমণির পরিবারে ৷ এত বড় জমিদারি দেখবে কে ? শেষ পর্যন্ত অবশ্য মেয়ে-জামাতার মধ্যেই ভাগ হয়েছিল রাজচন্দ্রের জমিদারি ৷ আর সেই কারণেই আজও তিনটি ভাগে চলছে এই পুজো ৷

    এই পুজোতেই শাড়ি পরে, সখী বেশে মায়ের পুজো করতে এসেছিলেন রামকৃষ্ণদেব ৷ পাছে লোকের তাঁকে চিনে ফেলে হৈ-চৈ বাঁধিয়ে দেয়, সে কারণেই ছদ্মবেশ ধরতে হয়েছিল পরমহংসদেবকে ৷ যখন গাড়ি থেকে নেমে মথুরবাবুর স্ত্রী-র পাশে দাঁড়িয়ে মা’কে চামর দুলিয়ে তিনি হাওয়া করছেন, তখন তাঁকে দেখে কেউ চিনতেই পারেননি ৷ এমনকী মথুরবাবুও নাকি পরে স্ত্রী জগদম্বাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘উনি কে গো ? ঠিক চিনতে পারলুম না ৷’ জগদম্বা তখন তাঁকে বলেন, ‘ও যে আমাদের ছোট ঠাকুর ৷’ মুছে গিয়েছে পুরনো সেই জৌলুস... দিন যাপনের ক্ষণের মধ্যে ফিকে হয়েছে গরিমা ৷ রয়ে গিয়েছে পুরনো যুগের আস্তরণ আর সেকালের গল্পগুলো ৷ এই ঠাকুরের মুখের আদলেই ‘দেবী’র পোস্টার এঁকেছিলেন সত্যজিৎ রায় ৷ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য এই পুজো ৷ এখনও ৫২ জনের যৌথ পরিবার কোমর বেঁধে নামে সেই পুজোর প্রস্তুতিতে ৷

লেটেস্ট ভিডিও