Gangasagar Mela 2026: শুধু পুণ্য নয়, পেটের টানেও ছুটে আসেন অনেকেই! চিরাচরিত সেই রীতি অটুট, আয়ের খোঁজে গঙ্গাসাগর মেলায় ছত্তিশগড়ের বাবা-মেয়ে
- Reported by:Suman Saha
- hyperlocal
- Published by:Madhab Das
Last Updated:
Gangasagar Mela 2026: কেউ আসে পুণ্যের টানে, কেউ আসে পেটের টানে এই চিরাচরিত ছবিটাই ধরা পড়ল গঙ্গাসাগর মেলায়। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়ের মাঝেই সরু দড়ির ওপরে রুদ্ধশ্বাস খেলা দেখিয়ে সবার মন জয় করল কাজল নাট।
advertisement
কনকনে শীত আর সমুদ্রের হাওয়াকে উপেক্ষা করে বেলাভূমিতে দুটি খুঁটির মাঝে বাঁধা সরু দড়ির ওপর উঠেই শুরু হল তাঁদের কসরত। কখনও এক পায়ে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষা, কখনও চোখ বেঁধে হাঁটা, আবার কখনও দড়ির ওপর বসে নানা ভঙ্গিতে অভিনয় প্রতিটি মুহূর্তেই দর্শকদের নিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছিল। চারদিকে তখন করতালি আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে গঙ্গাসাগরের মেলা প্রাঙ্গণ।
advertisement
advertisement
একদিকে পুণ্যের সাধনা, অন্যদিকে জীবিকার লড়াই গঙ্গাসাগর মেলায় এই দুই স্রোত মিলেমিশেই তৈরি করেছে মানবজীবনের এক অনন্য ছবি। সুদূর ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা রোহিত কুমার নাট তার মেয়ে কাজল নাটকে নিয়ে গঙ্গাসাগর মেলায় এসেছে কিছু আয়ের আশায়। পরিবার কলকাতায় থাকলেও মেয়েকে নিয়ে তিনি গঙ্গাসাগরে চলে এসেছেন যদি মেলা ক'টা দিন কিছু আয় রোজগার হয় তাতে স্বচ্ছলতা আসবে সংসারে।
advertisement
কখনও দু'নম্বর রাস্তায় আবার কখনও বা মেলার অন্য কোথাও মাসের মধ্যে দড়ি টানিয়ে তাড়াতাড়ি চলছে বাবা ও মেয়ের সার্কাস খেলা। কখনও দড়ির ওপর দিয়ে মাথায় ঘট নিয়ে হেঁটে চলেছে আবার কখনও বা দড়ির ওপরে দাঁড়িয়েই একাধিক খেলা দেখাচ্ছে বছর দশের কাজল। আর গঙ্গাসাগরে আসা মানুষজনও তো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছে। তবে খেলা দেখে কেউ কেউ কিছু টাকাও দিলেও অনেকেই তো দিচ্ছেন না। আর তাতে অবশ্য ক্ষোভ নেই রোহিত কুমার ও তার মেয়ে কাজলের।
advertisement
সব সময় হাসিমুখ কাজলের শত কষ্টের মাঝেও দুটো টাকা আয়ের জন্য। এই ভাবেই কখনও মেলা প্রাঙ্গণে কখনও মন্দিরের সামনে আবার কখনও বা বিভিন্ন রাস্তার ধারে এখন গঙ্গাসাগরে খেলা দেখিয়ে চলেছে বাবা ও মেয়ে। আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা পূর্ণাথীরা তা উপভোগও করছেন। আর এই কারণেই হয়তো গঙ্গাসাগরকে শুধুমাত্র পূর্ণ তীর্থ বলে না ভাষা সংস্কৃতি সমন্বয়ের এক মেলবন্ধনের স্থল। (তথ্য ও ছবি: সুমন সাহা)








