East Medinipur News: কাঁথির কাজু শিল্পে বিরাট পরিকল্পনা! নতুন সিদ্ধান্তে বাড়বে লাভ-কর্মসংস্থান দুটোই, জানুন বিস্তারিত
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Madhab Das
Last Updated:
East Medinipur News: পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ও তৎসংলগ্ন এলাকার কাজু শিল্পে এবার নতুন পরিকল্পনা। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন লাভের পরিমাণ বাড়বে, অন্যদিকে তৈরি হতে পারে প্রচুর কর্মসংস্থান। বিশ্ববাজার ধরার লক্ষ্যে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এই শিল্পকে ঘিরে।
কাজু শিল্পে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখাচ্ছে কন্টাই কাজু অ্যাসোসিয়েশন। কন্টাই কাজু অ্যাসোসিয়েশন নবম বার্ষিক সম্মেলনে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন এলাকার কাজু ব্যবসায়ীরা। শিল্পের বর্তমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে এই শিল্পে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কাজু প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
advertisement
২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে কাজু উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানি বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণায় আশাবাদী কাঁথির কাজু ব্যবসায়ীরা। উপকূলীয় এলাকায় উৎপাদন বাড়াতে কেন্দ্র জোর দিচ্ছে। ফলে স্থানীয় চাষিরা উপকৃত হতে পারেন। কাজু গাছের পরিচর্যা থেকে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বাজেট ঘোষণার পর শিল্পমহলে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে।
advertisement
বর্তমানে কাঁথির কাজু শিল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাঁচামাল বাইরের দেশ থেকে আমদানি করা হয়। মাত্র ২০ শতাংশ কাজু স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। এই নির্ভরতা কমাতে চায় শিল্পমহল। কাঁথি এলাকায় উৎপাদন বাড়লে আমদানির প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে খরচও কমবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
advertisement
কন্টাই কাজু অ্যাসোসিয়েশন এবার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা নতুন করে কাজু ব্যবসায় যুক্ত হতে চান, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি কারখানায় কাজের মাধ্যমে হাতে-কলমে শেখানো হবে কাজু প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতি। কীভাবে কাজু ভাঙা হয়, আলাদা করা হয় এবং মান যাচাই করা হয়, তা শেখানো হবে। এছাড়া আমদানি ও রফতানির নিয়ম সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে।
advertisement
উপকূলীয় এলাকায় কাজু উৎপাদন বাড়লে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। চাষ, সংগ্রহ, শুকানো এবং প্রক্রিয়াকরণ—প্রতিটি ধাপে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের জন্যও সুযোগ বাড়তে পারে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলিও লাভবান হবে। স্থানীয় যুবকদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিল্পকে ঘিরে নতুন ব্যবসার সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
advertisement
কন্টাই কাজু অ্যাসোসিয়েশনের নবনিযুক্ত সভাপতি মির্জা রুকউদ্দিন বলেন, “যারা এই শিল্পে যুক্ত হতে চায়, তাদের জন্য আমাদের প্রত্যেকটি কারখানায় কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। কাজের মধ্য দিয়েই তারা শিখতে পারবে কীভাবে কাজু আমদানি করা হয়, কীভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হয় এবং কীভাবে রফতানি করা হয়। পুরো পদ্ধতিই হাতে-কলমে শেখানো হবে।” তিনি আরও বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় যদি কাজু উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, তাহলে কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। স্থানীয় যুবক-যুবতীরা নতুন করে এই শিল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।”









