Bankura News: ভোট এলেই বাড়ে ব্যস্ততা, তাকে ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার অসম্পূর্ণ! ৩৫ বছর ধরে টিকে বাঁকুড়ার হাজরা সাউন্ড
- Reported by:Nilanjan Banerjee
- Published by:Aishwarya Purkait
Last Updated:
Bankura News: ভোট এলেই বাড়ে ব্যস্ততা। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার কার্যত তাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ। ভোটের প্রচারের বার্তা মানুষের কানে পৌঁছে দিতে মাইক ও স্পিকারের সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন বাঁকুড়ার লোকপুরের ব্যবসায়ী শ্যামল হাজরা।
ভোট এলেই বাড়ে ব্যস্ততা। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার কার্যত অসম্পূর্ণ থেকে যায় মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ছাড়া। তাই ভোটের মরশুমে বিশেষ কদর বেড়ে যায় এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের। পাড়ার পার্টি অফিস থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের প্রচারসভা সব জায়গাতেই প্রয়োজন মাইক, স্পিকার ও অ্যামপ্লিফায়ারের। এই কাজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত বাঁকুড়ার লোকপুরের বাসিন্দা শ্যামল হাজরা। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি চোঙা, স্পিকার ও মাইক মেরামত এবং ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করছেন। (ছবি ও তথ্য: নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়)
advertisement
পুজো-পার্বণ, পিকনিক, জন্মদিন কিংবা অনুষ্ঠান বাড়ি বছরভরই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সরঞ্জামের চাহিদা থাকে। যুবকেরা কাঁধে করে বক্স, স্পিকার ও মাইক নিয়ে পৌঁছে যান অনুষ্ঠানস্থলে। তবে বিধানসভা ভোটের আগে এই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের বার্তা মানুষের কানে পৌঁছে দিতে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের উপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে ভোটের মরশুমে শ্যামল হাজরার মতো ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে। সারাদিন কেটে যায় মেরামত ও সরঞ্জাম সরবরাহের কাজে।
advertisement
সরকারি সচেতনতামূলক প্রচারেও তাঁর পরিষেবার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোটের প্রশিক্ষণ চলাকালীন মাইক ও কর্ডলেস সরবরাহ করেন তিনি। শ্যামল হাজরার কথায়, ভোটের আগে মাইক ও অ্যামপ্লিফায়ারের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই সমস্ত সরঞ্জাম পরীক্ষা করে প্রস্তুত রাখতে হয়। রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্য যাতে সাধারণ মানুষ স্পষ্ট শুনতে পান, সেই দায়িত্বই পালন করেন তিনি।
advertisement
তবে শুধু ভোট বা বড় অনুষ্ঠানেই এই ব্যবসা সীমাবদ্ধ নয়। শ্যামল হাজরা জানান, শব্দদূষণের নিয়ম মেনে সারা বছরই বিভিন্ন ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও তাঁরা মাইক ও অ্যামপ্লিফায়ার সরবরাহ করেন। পুলিশের নিয়ম মেনেই কাজ চলে। ভোটকে কেন্দ্র করে যেমন বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা নতুন করে গতি পায়, তেমনই ভোট শেষ হলে অনেক ক্ষেত্রেই সেই ব্যস্ততা কমে যায়। তবু পরবর্তী ভোট কিংবা বড় কোনও অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় থাকেন শ্যামল হাজরার মতো ব্যবসায়ীরা, যাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ থেকে যায় ভোটের প্রচার।
advertisement
এলাকার বহু যুবকও এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন মৌসুমভিত্তিকভাবে। ভোটের সময় মাইক, স্পিকার, তার এবং অ্যামপ্লিফায়ার বহন করা থেকে শুরু করে গাড়িতে সাউন্ড সিস্টেম বসানো - এই সব কাজেই স্থানীয় যুবকদের সাহায্য নিতে হয়। ফলে কয়েক দিনের জন্য হলেও তাদের কিছু বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। শ্যামল হাজরার কথায়, ভোটের মরশুম মানেই শুধু রাজনৈতিক ব্যস্ততা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু ছোটখাটো কাজ এবং মানুষের রুজিরোজগার।
advertisement
লোকপুর এলাকায় শ্যামল হাজরার এই ব্যবসা এখন অনেকটাই পরিচিত। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ক্লাব এবং স্থানীয় সংগঠন তাঁর উপরেই ভরসা রাখে। মাইক বা স্পিকারে সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও দ্রুত মেরামত করে দেওয়ার জন্য পরিচিত তিনি। বিধানসভা ভোটের আগে তাই দিন গুনছেন শ্যামল হাজরা। সামনে আরও ব্যস্ত সময় আসছে বলেই মনে করছেন তিনি, কারণ ভোটের প্রচারে শব্দ পৌঁছে দেওয়ার এই দায়িত্ব এখনও অনেকটাই নির্ভর করে তাঁর মতো অভিজ্ঞ সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীদের উপর। (ছবি ও তথ্য: নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়)





