East Bardhaman News: দিনভর মাঠে ধান কুড়িয়ে আয় মাত্র কয়েকশো টাকা, এক মুঠো ভাতের জন্য বাজি রাখেন জীবন! শেষ ভরসাও কাড়ছে মেশিন
- Reported by:Bonoarilal Chowdhury
- hyperlocal
- Published by:Nayan Ghosh
Last Updated:
East Bardhaman News: মাঠে পড়ে থাকা ধানের শীষ কুড়িয়েই তাঁদের রুজি-রোজগার। সেই ধান বিক্রি করেই কোনওরকমে চলে সংসার।
কনকনে ঠান্ডায় জুবুথুবু আট থেকে আশি। রাত নামলেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় রাস্তাঘাট ও মাঠঘাট। তবে শীতের দিনেও জীবনের লড়াইয়ে কোনও ছাড় নেই। পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের শিবলুন এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে খড়ের অস্থায়ী কুঁড়েঘর করে দিন কাটাচ্ছেন ভিন জেলা থেকে আসা বহু পরিবার। মাঠে পড়ে থাকা ধানের শীষ কুড়িয়েই তাঁদের রুজি-রোজগার। সেই ধান বিক্রি করেই কোনওরকমে চলে সংসার। (তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী)
advertisement
অগ্রহায়ণ মাস শেষ হলেই গ্রামীণ এলাকার মাঠ প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। আমন ধান কেটে ঘরে তোলার পর জমিতে পড়ে থাকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধানের শীষ। সেই শীষ কুড়িয়েই জীবিকা নির্বাহ করে বহু দরিদ্র পরিবার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে ঘুরে শীষ থেকে ধান ঝেড়ে সংগ্রহ করেন তাঁরা। সারাদিনের পরিশ্রমে মাত্র কয়েক বস্তা ধান জোটে, সেটাই বহু পরিবারের একমাত্র ভরসা। কনকনে ঠান্ডায় ফাঁকা মাঠের মধ্যেই খড়ের কুঁড়ে করে রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।
advertisement
কেতুগ্রামের শিবলুন গ্রামে বর্তমানে এমনই বেশ কয়েকটি পরিবার তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করছে। এঁদের অনেকেরই নিজস্ব কোনও জমি নেই। কেউ কেউ ভাগচাষ করে জীবিকা চালান। ধান কাটার মরশুম শেষ হলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে ধানের শীষ কুড়াতে বেরিয়ে পড়েন। নদীয়া জেলার করিমপুর এলাকার বাসিন্দা নির্মল রায় স্ত্রী সোহাগী দেবীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কেতুগ্রামে। নির্মল রায় জানান, দিনে গড়ে অর্ধেক বস্তার মতো ধান সংগ্রহ হয়। কয়েকদিনে পাঁচ-ছ’ বস্তা হলেই আবার অন্য মাঠের খোঁজে বেরিয়ে পড়বেন তাঁরা।
advertisement
নির্মল রায়ের স্ত্রী সোহাগী দেবী খড়ের কুঁড়ে থেকে মুখ বাড়িয়ে বলেন, ধানের শীষ কুড়িয়েই জীবনের অর্ধেকটা সময় কেটে গিয়েছে। এখান থেকে যেটুকু আয় হয়েছে, তা দিয়েই তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশের মাঠে তাঁবু খাটিয়ে থাকা ঝোড়ো হেমব্রমের পরিবার জানায়, আগের মতো আর মাঠে ধানের শীষ পড়ে থাকে না। এখন অধিকাংশ চাষি মেশিনে ধান কাটায় তাঁদের জন্য সুযোগ আরও কমে গিয়েছে। তবুও যেটুকু ঝরে পড়া ধান পাওয়া যায়, সেটাই কুড়িয়ে দিন কাটছে তাঁদের।
advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক বস্তা ধানের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। সাধারণত একটি এলাকায় প্রায় দশ দিন করে থাকেন এই পরিবারগুলি। সব মিলিয়ে দশ দিনে সাত থেকে আট বস্তা ধান সংগ্রহ করতে পারেন তাঁরা। এতে মরশুমে মোটামুটি ৫ হাজার ৬০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। বিমল পাহাড়িয়া ও শঙ্কর পাহাড়িয়া জানান, ঠান্ডার কষ্ট সকলেরই হয়, তাঁদেরও হচ্ছে। কিন্তু পেটের জ্বালাই সবথেকে বড় জ্বালা। সেই কারণেই জীবন বাজি রেখে শীতের রাতে খোলা মাঠেই পড়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। (তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী)









