advertisement

GK: দেশের কোথায় গড়ে উঠেছিল প্রথম পোস্ট অফিস? কীভাবে হল চিঠিপত্র আদান-প্রদান? জানুন

Last Updated:
East Medinipur News: খেজুরির এই ডাক অফিস থেকেই চিঠিপত্র আদান-প্রদান হত। আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক অরিন্দম ভৌমিক তাঁর মেদিনী কথা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, প্রথম দিকে খেজুরি থেকে ছোট নৌকায় চিঠি কুলপি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হত, সেখান থেকে হেঁটে কলকাতায় পৌঁছানো হত।
1/6
সালটা ১৭৫৭। শুরু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন। সেই সময় শুধু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিই নয়, বাংলার একাধিক এলাকায় ডাচ–ওলন্দাজরাও বাণিজ্য করত। তৎকালীন সময়ে শুধুমাত্র কলকাতা নয়, জলপথে খেজুরি ও ডায়মন্ড হারবারও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। আর এই বাণিজ্যের সূত্র ধরেই পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে গড়ে ওঠে দেশের প্রথম ডাকঘর। কিন্তু জানেন কি, খেজুরি থেকে তখন কীভাবে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হত? আর আজ ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে ভারতের প্রথম ডাকঘর?
সালটা ১৭৫৭। শুরু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন। সেই সময় শুধু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিই নয়, বাংলার একাধিক এলাকায় ডাচ–ওলন্দাজরাও বাণিজ্য করত। তৎকালীন সময়ে শুধুমাত্র কলকাতা নয়, জলপথে খেজুরি ও ডায়মন্ড হারবারও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। আর এই বাণিজ্যের সূত্র ধরেই পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে গড়ে ওঠে দেশের প্রথম ডাকঘর। কিন্তু জানেন কি, খেজুরি থেকে তখন কীভাবে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হত? আর আজ ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে ভারতের প্রথম ডাকঘর?
advertisement
2/6
১৭৫০ সাল। ভারত তথা বাংলার বাজারে তখন ডাচ–ওলন্দাজ বণিকদের প্রভাব ছিল প্রবল। খেজুরি, ডায়মন্ড হারবার, কুঁকড়াহাটি—এই সব বন্দর থেকে লবণ, মশলা, নীল সহ নানা পণ্য জলপথে রপ্তানি হত। বাণিজ্যের প্রয়োজনে তখন যোগাযোগ ব্যবস্থার দরকার পড়ে। সেই তাগিদেই ১৭৭২ সালে খেজুরিতে দেশের প্রথম ডাকঘর গড়ে ওঠে বলে জানা যায়, যদিও এই বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
১৭৫০ সাল। ভারত তথা বাংলার বাজারে তখন ডাচ–ওলন্দাজ বণিকদের প্রভাব ছিল প্রবল। খেজুরি, ডায়মন্ড হারবার, কুঁকড়াহাটি—এই সব বন্দর থেকে লবণ, মশলা, নীল সহ নানা পণ্য জলপথে রফতানি হত। বাণিজ্যের প্রয়োজনে তখন যোগাযোগ ব্যবস্থার দরকার পড়ে। সেই তাগিদেই ১৭৭২ সালে খেজুরিতে দেশের প্রথম ডাকঘর গড়ে ওঠে বলে জানা যায়, যদিও এই বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
advertisement
3/6
ইংরেজরা বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিকে ‘কেডগিরি’ নামে ডাকত। তৎকালীন বিভিন্ন বই ও পত্র-পত্রিকায় এই নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। তখনও কলকাতা বন্দরের পত্তন হয়নি। খেজুরির এই ডাক অফিস থেকেই চিঠিপত্র আদান-প্রদান হত। আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক অরিন্দম ভৌমিক তাঁর মেদিনী কথা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, প্রথম দিকে খেজুরি থেকে ছোট নৌকায় চিঠি কুলপি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হত, সেখান থেকে হেঁটে কলকাতায় পৌঁছানো হত।
ইংরেজরা বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিকে ‘কেডগিরি’ নামে ডাকত। তৎকালীন বিভিন্ন বই ও পত্র-পত্রিকায় এই নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। তখনও কলকাতা বন্দরের পত্তন হয়নি। খেজুরির এই ডাক অফিস থেকেই চিঠিপত্র আদান-প্রদান হত। আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক অরিন্দম ভৌমিক তাঁর মেদিনী কথা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, প্রথম দিকে খেজুরি থেকে ছোট নৌকায় চিঠি কুলপি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হত, সেখান থেকে হেঁটে কলকাতায় পৌঁছানো হত।
advertisement
4/6
পরে খেজুরি থেকে ডাক-নৌকায় সরাসরি কলকাতা যাতায়াত শুরু হয়। এই ডাক অফিসের অধীনে ৬-৭টি ডাক-নৌকা ছিল এবং কর্মচারীদের থাকার জন্য পাশেই ছিল ১২ ঘর বিশিষ্ট ব্যারাক। ১৮০৬ সালের ২০ আগস্ট প্রকাশিত একটি সংবাদে জানা যায়, খেজুরির একটি ডাক-নৌকায় বাঘ লাফিয়ে উঠে মাঝিকে নিয়ে চলে যায়।
পরে খেজুরি থেকে ডাক-নৌকায় সরাসরি কলকাতা যাতায়াত শুরু হয়। এই ডাক অফিসের অধীনে ৬-৭টি ডাক-নৌকা ছিল এবং কর্মচারীদের থাকার জন্য পাশেই ছিল ১২ ঘর বিশিষ্ট ব্যারাক। ১৮০৬ সালের ২০ আগস্ট প্রকাশিত একটি সংবাদে জানা যায়, খেজুরির একটি ডাক-নৌকায় বাঘ লাফিয়ে উঠে মাঝিকে নিয়ে চলে যায়।
advertisement
5/6
১৮৫১ সালে খেজুরির এই ডাকঘর থেকেই টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার সূচনা করেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডব্লু বি ও সাউগণেশ। ১৮৫২ সাল থেকে টেলিগ্রাফে যোগাযোগ শুরু হয়। তবে ১৮৫৫ সালের দিকে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রায় সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। যথাযথ সংরক্ষণের অভাব ও উদাসীনতার কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যায় বন্দর ও ডাকঘর । আজ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধু কিছু ভগ্নাবশেষ।
১৮৫১ সালে খেজুরির এই ডাকঘর থেকেই টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার সূচনা করেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডব্লু বি ও সাউগণেশ। ১৮৫২ সাল থেকে টেলিগ্রাফে যোগাযোগ শুরু হয়। তবে ১৮৫৫ সালের দিকে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রায় সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। যথাযথ সংরক্ষণের অভাব ও উদাসীনতার কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যায় বন্দর ও ডাকঘর । আজ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধু কিছু ভগ্নাবশেষ।
advertisement
6/6
খেজুরি হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতির সহ-সম্পাদক সুদর্শন সেন বলেন, “খেজুরিতে অবস্থিত দেশের প্রথম ডাকঘরকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার কথা রাজ্য হেরিটেজ কমিশন ঘোষণা করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরির গর্বিত ইতিহাস। আমরা চাই, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”
খেজুরি হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতির সহ-সম্পাদক সুদর্শন সেন বলেন, “খেজুরিতে অবস্থিত দেশের প্রথম ডাকঘরকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার কথা রাজ্য হেরিটেজ কমিশন ঘোষণা করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরির গর্বিত ইতিহাস। আমরা চাই, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”
advertisement
advertisement
advertisement