GK: Wine Capital of India: ‘ওয়াইনের রাজধানী’ বলা হয় ভারতের কোন শহরকে? তাবড় ক্যুইজমাস্টাররাও পারবেন না বলতে! হতভম্ব হয়ে যাবেন সঠিক উত্তর জানলে
- Published by:Arpita Roy Chowdhury
- news18 bangla
Last Updated:
GK: Wine Capital of India: দেশের এই শহরে ৫২টি ওয়াইনারি রয়েছে, যা ৮,০০০ একরেরও বেশি জমিতে আঙ্গুর চাষের উপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলে সব ধরনের আঙ্গুর চাষ সহ মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১৮,০০০ একর।
পনেরো বছর আগে ভারতে ভাল মানের ওয়াইন খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। ওয়াইনপ্রেমীরা প্রায়শই ইতালি, ফ্রান্স বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো জায়গার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দিকে তাকাতেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে। আজ, ভারত শুধু তার নিজস্ব পুরস্কার বিজয়ী বিশ্বমানের ওয়াইন-ই উৎপাদন করে না, বরং তার ক্রমবর্ধমান আঙুরক্ষেতের মাধ্যমে পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে – যেখানে দেশের ওয়াইন রাজধানী হিসেবে মহারাষ্ট্রের নাসিক অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
advertisement
মহারাষ্ট্রের মুম্বই থেকে প্রায় ১০০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নাসিক শহরটি দীর্ঘকাল ধরেই ওয়াইন উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, কিন্তু এই খেতাবটি অর্জন করেছে মাত্র গত দেড় দশকে। শহরটির ঐতিহাসিক তাৎপর্যও রয়েছে৷ বর্তমানে নাসিকে ৫২টি ওয়াইনারি রয়েছে, যা ৮,০০০ একরেরও বেশি জমিতে আঙুর চাষের ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলে সব ধরনের আঙুর চাষ সহ মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১৮,০০০ একর।
advertisement
ওয়াইন উৎপাদনে নাসিকের সাফল্যের প্রধান কারণ হল এর অনন্য মাটি এবং অনুকূল পরিস্থিতি। এই অঞ্চলের লাল ল্যাটেরাইট মাটি আঙুর চাষের জন্য আদর্শ, এবং একটি সুপ্রতিষ্ঠিত জল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে আঙুর ক্ষেতগুলো তাদের প্রয়োজনীয় সেচ পায়। নাসিক একটি প্রাচীন শহর হলেও, এই অঞ্চলে ওয়াইন উৎপাদন তুলনামূলকভাবে নতুন। সুলা ভিনইয়ার্ডস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, রাজীব সুরেশ সামন্ত, একবার সিএনএন-কে বলেছিলেন যে ১৯৯০-এর দশকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ভারতে ফিরে এসে তিনি বুঝতে পারেন যে ভালো স্থানীয় ওয়াইনের অভাব রয়েছে। এই সুযোগটি দেখে সামন্ত ১৯৯৯ সালে নাসিকের প্রথম আধুনিক ওয়াইনারি ‘সুলা’ প্রতিষ্ঠা করেন।
advertisement
“নাসিক বরাবরই তার আঙুরের জন্য বিখ্যাত,” বলেন সামন্ত। “আসলে, প্রায় ৫০০ বছর আগেও ভারতে ওয়াইনের ঐতিহ্য ছিল। কাশ্মীর ও হায়দ্রাবাদের বাইরেও আঙুর ক্ষেত ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ২০০-৩০০ বছরের জন্য ওয়াইন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় – যার মধ্যে রয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফাইলোক্সেরা পোকার প্রাদুর্ভাব, ব্রিটিশ শাসনামলে বিয়ারের প্রতি সাংস্কৃতিক ঝোঁক এবং ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত মদ্যপান-বিরোধী আইন।”
advertisement
সমস্ত অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের মধ্যে, ভারতে বর্তমানে ওয়াইনের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে – এবং আশা করা হচ্ছে যে আগামী বছরগুলিতে এটি আধুনিক পানকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ হয়ে উঠবে। শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবী ও নারীদের মধ্যে ওয়াইন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ক্রমবর্ধমান আয়, নগরায়ন, পরিবর্তিত রুচি এবং চাকুরিরতা নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির মতো কারণগুলো এই প্রবণতাকে চালিত করছে। অধিকাংশ ভারতীয় ওয়াইন পানকারীর বয়স ২৫ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে।
advertisement
ভারতের প্রথম ওয়াইন মাস্টার, সোনল হল্যান্ড, সম্প্রতি দেশের ওয়াইন শিল্প নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন যে, ওয়াইন পর্যটন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও, ভারতে ওয়াইন ভোক্তার সংখ্যা মাত্র ৪০-৫০ লক্ষ। মোট অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের বাজারে ওয়াইনের অংশ ১ শতাংশেরও কম। মাথাপিছু ওয়াইন ব্যবহারের পরিমাণ ৫০ মিলিলিটারেরও কম – যা বিশ্বব্যাপী গড় ৫.৫ লিটারের চেয়ে অনেক কম। (Disclaimer: মদ্যপান-সহ যে কোনও নেশা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্যের খাতিরে পরিবেশিত। News18 বাংলা কোনওরকম নেশাগ্রহণে পাঠকদের উৎসাহিত করে না৷)






