advertisement

Success Story: এক সময় পেতেন মাত্র ১৫ টাকা, আজ সেই রিয়াজউদ্দিনই পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র জাতীয় স্তরে বিশেষ সম্মানে ভূষিত

Last Updated:
মাত্র ১৫ টাকা রোজগার দিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। আজ বীরভূমের রিয়াজউদ্দিন জাতীয় স্তরের বিশেষ সম্মানে ভূষিত হয়ে হয়ে উঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের গর্ব—সংগ্রাম থেকে সাফল্যের অনুপ্রেরণামূলক এক কাহিনি
1/5
বীরভূমের লোকপুর থানার বুধপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ রিয়াজউদ্দিন এক অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। দিল্লির 'ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিয়া' নামক একটি স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁকে ২০২৫-২৬ বর্ষের জন্য জাতীয় স্তরে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছে। গত ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে সারা ভারত থেকে মাত্র ১৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন রিয়াজউদ্দিন। ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে অতিথিদের উপস্থিতিতে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
বীরভূমের লোকপুর থানার বুধপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ রিয়াজউদ্দিন এক অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। দিল্লির 'ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিয়া' নামক একটি স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁকে ২০২৫-২৬ বর্ষের জন্য জাতীয় স্তরে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছে। গত ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে সারা ভারত থেকে মাত্র ১৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন রিয়াজউদ্দিন। ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে অতিথিদের উপস্থিতিতে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
advertisement
2/5
রিয়াজউদ্দিনের সমাজসেবার শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। নব্বইয়ের দশকে যখন গ্রামীণ এলাকায় পোলিও টিকাকরণ নিয়ে প্রবল অনীহা ছিল, তখন তিনি ঢাল হয়ে দাঁড়ান। স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখলেই গ্রামের মানুষ পালিয়ে যেতেন। তাঁদের কুসংস্কার ভাঙতে রিয়াজউদ্দিন গ্রামের ইমাম, মওলানা এবং পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি গ্রামবাসীদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, এই টিকা শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।
"রিয়াজউদ্দিনের সমাজসেবার শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। নব্বইয়ের দশকে যখন গ্রামীণ এলাকায় পোলিও টিকাকরণ নিয়ে প্রবল অনীহা ছিল, তখন তিনি ঢাল হয়ে দাঁড়ান। স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখলেই গ্রামের মানুষ পালিয়ে যেতেন। তাঁদের কুসংস্কার ভাঙতে রিয়াজউদ্দিন গ্রামের ইমাম, মওলানা এবং পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি গ্রামবাসীদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, এই টিকা শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।
advertisement
3/5
প্রাথমিক পর্যায়ে কোন সরকারি পদ ছাড়াই তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। পরবর্তীকালে সরকার তাঁকে একজন 'সোশ্যাল ওয়ার্কার' হিসেবে রিক্রুট করে, যেখানে প্রতিদিন মাত্র ১৫ টাকা সাম্মানিক পেতেন তিনি। পোলিও টিকাকরণের পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের সচেতন করা, ডায়রিয়া প্রতিরোধ এবং শিশুদের অন্যান্য টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে কোন সরকারি পদ ছাড়াই তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। পরবর্তীকালে সরকার তাঁকে একজন 'সোশ্যাল ওয়ার্কার' হিসেবে রিক্রুট করে, যেখানে প্রতিদিন মাত্র ১৫ টাকা সাম্মানিক পেতেন তিনি। পোলিও টিকাকরণের পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের সচেতন করা, ডায়রিয়া প্রতিরোধ এবং শিশুদের অন্যান্য টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
advertisement
4/5
কেবল স্বাস্থ্য নয়, গ্রামের শিক্ষার প্রসারেও রিয়াজউদ্দিনের অবদান অনস্বীকার্য। একবার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন লেগে চাল পুড়ে ছাই হয়ে গেল। পঠনপাঠন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা না করে তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে গ্রাম থেকে বাঁশ ও খড় সংগ্রহ করেন। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে পুনরায় স্কুলের ছাউনির ব্যবস্থা করেন, যাতে খোলা আকাশের নীচে বসে থাকা শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ আজও গ্রামের মানুষের কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত।
কেবল স্বাস্থ্য নয়, গ্রামের শিক্ষার প্রসারেও রিয়াজউদ্দিনের অবদান অনস্বীকার্য। একবার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন লেগে চাল পুড়ে ছাই হয়ে গেল। পঠনপাঠন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা না করে তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে গ্রাম থেকে বাঁশ ও খড় সংগ্রহ করেন। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে পুনরায় স্কুলের ছাউনির ব্যবস্থা করেন, যাতে খোলা আকাশের নীচে বসে থাকা শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ আজও গ্রামের মানুষের কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত।
advertisement
5/5
পুরস্কার পাওয়ার পর রিয়াজউদ্দিনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিনম্র। তিনি জানান,
পুরস্কার পাওয়ার পর রিয়াজউদ্দিনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিনম্র। তিনি জানান, "কর্ম করে যাও, ফলের আশা কোরো না, এই দর্শনেই আমি বিশ্বাস করি।" স্বীকৃতি পাওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে তিনি তাঁর নিজস্ব একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সময়ের প্রান্তিক সমাজকর্মী আজ জাতীয় স্তরে বীরভূমের তথা বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
advertisement
advertisement
advertisement