পুরুষদের তুলনায় শীতকালে নারীদের হাত-পা বেশি ঠান্ডা হয় কেন? কারণ জানালেন চিকিৎসকরা
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
আশপাশের অনেকেই যখন স্বাভাবিক থাকে, তখন নারীরা কেন বেশি ঠান্ডা অনুভব করেন? এটা কি শুধুই অনুভূতির বিষয়? আসল কারণ জানলে চমকাবেন।
শীত এলেই বহু নারীর পরিচিত এক সমস্যা সামনে আসে—হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। আশপাশের অনেকেই যখন স্বাভাবিক থাকে, তখন নারীরা কেন বেশি ঠান্ডা অনুভব করেন? এটা কি শুধুই অনুভূতির বিষয়? চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মোটেও না। এর পেছনে রয়েছে নারীর শরীরের নিজস্ব গঠন, হরমোন, রক্তসঞ্চালন ও বিপাকগত পার্থক্য। (Representative Image: AI)
advertisement
শীতে অনেক নারীর হাত-পা বেশি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিকিৎসকেরা জানান, নারীর শরীর স্বাভাবিকভাবেই জীবনরক্ষাকারী অঙ্গগুলিকে আগে উষ্ণ রাখার জন্য কাজ করে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর হাত-পা থেকে রক্ত সরিয়ে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দিকে পাঠায়। এর ফলে হাত ও পায়ের ত্বকে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে সেগুলি দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। (Representative Image: AI)
advertisement
এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হরমোনের ভূমিকা। ইস্ট্রোজেন হরমোন রক্তনালির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ঠান্ডায় নারীদের রক্তনালি দ্রুত সঙ্কুচিত হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ভাসোকনস্ট্রিকশন। এর ফলে হাত-পায়ে উষ্ণ রক্ত পৌঁছতে দেরি হয়। এই কারণেই রেনোডস ফেনোমেনন নামের একটি সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যেখানে ঠান্ডা বা মানসিক চাপে আঙুল সাদা বা নীলচে হয়ে যেতে পারে। মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ওঠানামাও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে। (Representative Image: AI)
advertisement
বিপাকগত পার্থক্যও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত পুরুষদের শরীরে পেশির পরিমাণ বেশি থাকে। পেশি বিশ্রাম অবস্থাতেও তাপ উৎপন্ন করে। ফলে পুরুষদের বেসাল মেটাবলিক রেট তুলনামূলক বেশি। নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি হলেও সেই চর্বি মূলত অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে, হাত-পা উষ্ণ রাখতে নয়। তাই হাত ও পায়ে ঠান্ডা বেশি লাগে। (Representative Image: AI)
advertisement
রক্তসঞ্চালনের দিক থেকেও পার্থক্য রয়েছে। নারীদের গড় রক্তচাপ সাধারণত কম হয় এবং প্রান্তিক রক্তপ্রবাহের গতি ধীর। ফলে হাত ও পায়ে উষ্ণ রক্ত পৌঁছতে সময় লাগে। এর পাশাপাশি রক্তাল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং ঠান্ডা অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তোলে। থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ কিংবা কিছু ওষুধও এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। (Representative Image: AI)
advertisement
তবে সব সময়ই এই ঠান্ডা অনুভূতি স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। যদি হাত-পায়ে ব্যথা, অবশ ভাব, রং বদলে যাওয়া বা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হাইপোথাইরয়ডিজম, রেনোডস ফেনোমেনন, পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বা অটোইমিউন রোগের মতো সমস্যার লক্ষণও হতে পারে এগুলি। (Representative Image: AI)
advertisement
মূলত শীতে নারীদের হাত-পা ঠান্ডা হওয়া শরীরের এক ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা। হরমোন, বিপাক এবং রক্তসঞ্চালন একসঙ্গে কাজ করে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে রক্ষা করে, যার খেসারত দিতে হয় হাত ও পাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক, তবে উপসর্গ গুরুতর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ। বিজ্ঞানটা জানা থাকলে দুশ্চিন্তা কমে, শীতটাও সামলানো সহজ হয়। (Representative Image: AI)
advertisement
ডা. সুস্মিতা রাজামান্য, ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, জানান—নারীদের শরীর ঠান্ডার সময়ে স্বাভাবিকভাবেই হাত-পা থেকে রক্ত সরিয়ে হৃদযন্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে উষ্ণ রাখতে চায়। এর ফলে প্রান্তিক অংশে রক্তসঞ্চালন কমে গিয়ে হাত ও পা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে নারীদের রক্তনালি ঠান্ডায় দ্রুত সঙ্কুচিত হয়, যার ফলেই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।







