advertisement

Kalna Weaver Earns Worldwide Fame: সীমাহীন দারিদ্রে দিন কেটেছে, কালনার সেই তাঁতিই আজ বিশ্ববিখ্যাত, তৈরি করছেন লাখ-লাখ টাকা দামের শাড়ি 

Last Updated:
দীর্ঘ কয়েক দশকের অক্লান্ত পরিশ্রমে তাঁর তৈরি শাড়ি আজ রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও সমান জনপ্রিয়। আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিশ্বের নানা দেশে রফতানি হচ্ছে কালনার এই শিল্পীর হাতে তৈরি শাড়ি
1/6
অভাব, সংগ্রাম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাঝখান দিয়েই যে সাফল্যের পথ তৈরি হয়, জ্যোতিষ দেবনাথের জীবন যেন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের উত্তাল সময়ে জ্যোতিষ দেবনাথের ঠাকুরদা দেবেন্দ্রমোহন দেবনাথ বাংলাদেশের নোয়াখালি ছেড়ে পরিবার নিয়ে চলে আসেন পূর্ব বর্ধমানের কালনা-২ ব্লকের দত্তদ্বারিয়াটন গ্রামে। নতুন দেশে নতুন জীবন, কিন্তু সঙ্গে ছিল সীমাহীন অভাব। সংসারে সদস্য সংখ্যা ১১ জন, আর উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন জ্যোতিষ দেবনাথের বাবা। জীবনধারণের তাগিদেই ঠাকুরদা সারাদিন গামছা বুনে সন্ধ্যেবেলায় হাটে গিয়ে তা বিক্রি করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাবা শুরু করেন খাদি বোনার কাজ।
অভাব, সংগ্রাম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাঝখান দিয়েই যে সাফল্যের পথ তৈরি হয়, জ্যোতিষ দেবনাথের জীবন যেন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের উত্তাল সময়ে জ্যোতিষ দেবনাথের ঠাকুরদা দেবেন্দ্রমোহন দেবনাথ বাংলাদেশের নোয়াখালি ছেড়ে পরিবার নিয়ে চলে আসেন পূর্ব বর্ধমানের কালনা-২ ব্লকের দত্তদ্বারিয়াটন গ্রামে। নতুন দেশে নতুন জীবন, কিন্তু সঙ্গে ছিল সীমাহীন অভাব। সংসারে সদস্য সংখ্যা ১১ জন, আর উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন জ্যোতিষ দেবনাথের বাবা। জীবনধারণের তাগিদেই ঠাকুরদা সারাদিন গামছা বুনে সন্ধ্যেবেলায় হাটে গিয়ে তা বিক্রি করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাবা শুরু করেন খাদি বোনার কাজ।
advertisement
2/6
এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই ১৯৫৮ সালে জন্ম জ্যোতিষ দেবনাথের। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন শ্রম কীভাবে মানুষের বেঁচে থাকার শক্তি হয়ে ওঠে। কালনার মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনার পর বাবার হাত ধরেই শুরু হয় তাঁর তাঁতযাত্রা। বাবার পরিশ্রম আর নিষ্ঠাই হয়ে ওঠে তাঁর প্রেরণা।
এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই ১৯৫৮ সালে জন্ম জ্যোতিষ দেবনাথের। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন শ্রম কীভাবে মানুষের বেঁচে থাকার শক্তি হয়ে ওঠে। কালনার মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনার পর বাবার হাত ধরেই শুরু হয় তাঁর তাঁতযাত্রা। বাবার পরিশ্রম আর নিষ্ঠাই হয়ে ওঠে তাঁর প্রেরণা।
advertisement
3/6
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতিষ দেবনাথ শুধু একজন তাঁতি হয়ে থাকেননি, হয়ে উঠেছেন এক জন পথপ্রদর্শক। যখন সাধারণভাবে মসলিনে শুধু নরমাল ফেব্রিকের কাজই চলত, তখন তিনিই প্রথম মসলিনের মধ্যে জামদানির প্রয়োগ ঘটান। ঠাকুরদা যেখানে গামছা বুনেছেন, বাবা খাদি, সেখানে জ্যোতিষ দেবনাথ মসলিনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন জামদানির শৈল্পিক সংযোজনে। তাঁর জীবনের লক্ষ্য একটাই, মসলিনের মধ্যে দিয়ে জামদানিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতিষ দেবনাথ শুধু একজন তাঁতি হয়ে থাকেননি, হয়ে উঠেছেন এক জন পথপ্রদর্শক। যখন সাধারণভাবে মসলিনে শুধু নরমাল ফেব্রিকের কাজই চলত, তখন তিনিই প্রথম মসলিনের মধ্যে জামদানির প্রয়োগ ঘটান। ঠাকুরদা যেখানে গামছা বুনেছেন, বাবা খাদি, সেখানে জ্যোতিষ দেবনাথ মসলিনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন জামদানির শৈল্পিক সংযোজনে। তাঁর জীবনের লক্ষ্য একটাই, মসলিনের মধ্যে দিয়ে জামদানিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া।
advertisement
4/6
দীর্ঘ কয়েক দশকের অক্লান্ত পরিশ্রমে তাঁর তৈরি শাড়ি আজ রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও সমান জনপ্রিয়। আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিশ্বের নানা দেশে রফতানি হচ্ছে কালনার এই শিল্পীর হাতে তৈরি শাড়ি। এক সময় অভাবের সংসারে লড়াই করা সেই মানুষটিই আজ কাজ করছেন মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানির সঙ্গে। বর্তমানে তিনি রিলায়েন্স গ্রুপের একটি বিশেষ প্রজেক্টে যুক্ত, যেখানে তাঁকে দুটি শাড়ি তৈরি করতে হচ্ছে, যার প্রতিটির মূল্য ১০ লক্ষ টাকা।
দীর্ঘ কয়েক দশকের অক্লান্ত পরিশ্রমে তাঁর তৈরি শাড়ি আজ রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও সমান জনপ্রিয়। আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিশ্বের নানা দেশে রফতানি হচ্ছে কালনার এই শিল্পীর হাতে তৈরি শাড়ি। এক সময় অভাবের সংসারে লড়াই করা সেই মানুষটিই আজ কাজ করছেন মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানির সঙ্গে। বর্তমানে তিনি রিলায়েন্স গ্রুপের একটি বিশেষ প্রজেক্টে যুক্ত, যেখানে তাঁকে দুটি শাড়ি তৈরি করতে হচ্ছে, যার প্রতিটির মূল্য ১০ লক্ষ টাকা।
advertisement
5/6
সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও জ্যোতিষ দেবনাথ থেমে থাকেননি। তাঁর তৈরি শাড়ি আজ একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড। কিন্তু নিজের উন্নতির পাশাপাশি তিনি সমাজের কথাও ভেবেছেন। বহু মানুষকে তিনি তাঁতের কাজ শিখিয়েছেন, যাঁরা আজ স্বাবলম্বী হয়ে সংসারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি পেতে চলেছেন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল বাংলার প্রাচীন তাঁতশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা এবং আগামী প্রজন্মের হাতে তা তুলে দেওয়া।
সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও জ্যোতিষ দেবনাথ থেমে থাকেননি। তাঁর তৈরি শাড়ি আজ একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড। কিন্তু নিজের উন্নতির পাশাপাশি তিনি সমাজের কথাও ভেবেছেন। বহু মানুষকে তিনি তাঁতের কাজ শিখিয়েছেন, যাঁরা আজ স্বাবলম্বী হয়ে সংসারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি পেতে চলেছেন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল বাংলার প্রাচীন তাঁতশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা এবং আগামী প্রজন্মের হাতে তা তুলে দেওয়া।
advertisement
6/6
৬৮ বছর বয়সেও নিষ্ঠা, শ্রম আর স্বপ্ন নিয়ে যিনি প্রতিদিন তাঁতের সামনে বসেন, কালনার সেই জ্যোতিষ দেবনাথ আজ শুধু জেলার নয়, রাজ্য ও দেশের গর্ব, অসংখ্য মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। বনোয়ারীলাল চৌধুরী, কালনা, পূর্ব বর্ধমান
৬৮ বছর বয়সেও নিষ্ঠা, শ্রম আর স্বপ্ন নিয়ে যিনি প্রতিদিন তাঁতের সামনে বসেন, কালনার সেই জ্যোতিষ দেবনাথ আজ শুধু জেলার নয়, রাজ্য ও দেশের গর্ব, অসংখ্য মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।বনোয়ারীলাল চৌধুরী, কালনা, পূর্ব বর্ধমান
advertisement
advertisement
advertisement